

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে রাজধানীর নিকেতনে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সেই হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল উদ্দিনের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতারণার ঘটনায় মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত, তাদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি চেক উদ্ধারের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগ ও রিমান্ড আবেদনে জানা যায়, হরিদাস নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরে তার সহযোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
একইভাবে, রাজধানীর নিকেতনে নির্মাণাধীন একটি ভবনে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে মামলার বাদীর কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলাটি গত ২৪ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, বাদী ও আসামি কলেজজীবনের বন্ধু এবং পরিচিত। ফ্ল্যাট কেনার বিষয়ে যোগাযোগের সূত্র ধরেই তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন শুরু হয়।
অভিযোগে বলা হয়, নিকেতনের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ফ্ল্যাটের দাম ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেটি কেনার জন্য বাদী বিভিন্ন সময়ে নগদ, বিকাশ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরে ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার কথা বলে আরও ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার জন্য দুটি চেক নেওয়া হয়।
তবে টাকা নেওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে আসামিরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বাদী জানতে পারেন, তাকে দেওয়ার কথা বলা ফ্ল্যাটটি অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
এরপর টাকা ফেরত অথবা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় মামলা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, তদন্তে প্রতারণার ঘটনায় আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি চেক উদ্ধারের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মাসুদ রানা জানান, হরিদাস বর্তমানে উত্তরা পশ্চিম থানার অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, বর্তমান মামলার রহস্য উদঘাটন, পলাতক সহযোগীদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত, দুটি চেক উদ্ধার এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।
শুনানি শেষে আদালত পুলিশের সাত দিনের আবেদনের বিপরীতে হরিদাস চন্দ্র তরনী ওরফে তৌহিদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

