

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চেক ডিজঅনারের মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা হওয়া আরেক মামলায় লোকসংগীত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ সাদিক আহম্মেদ এ আদেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহ আলম মিয়া জানান, ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর মুজিব পরদেশীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। অর্থদণ্ডের মধ্যে ৫ লাখ টাকা বাদীকে এবং বাকি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৩ সালে মুজিব পরদেশী বাদী মজিবুর রহমানের ছোট ভাই সোলায়মান সরদারকে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার কথা বলে মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। এর মধ্যে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে এবং বাকি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সোলায়মানকে যুক্তরাজ্যে নিতে না পারায় টাকা ফেরত চান মজিবুর রহমান। তখন মুজিব পরদেশী ২ লাখ ২০ হাজার টাকা করে দুটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেক দুটি একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হয়।
টাকা পরিশোধের জন্য একাধিকবার আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। পরে ২০০৪ সালের ১ জুন মুজিবুর রহমান মামলা করেন।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, মুজিব পরদেশী সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে বিদেশে নেওয়ার কথা বলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছেন।
এর আগে গত ৪ আগস্ট ১০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের আরেক মামলায় মুজিব পরদেশীকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২২ সালে মাগুরার আদালতে ইদ্রিস আলী বিশ্বাস ওই মামলাটি করেন। পরে ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মাগুরার দ্বিতীয় যুগ্ম দায়রা জজ মুহাম্মদ আনোয়ার ছাদাত তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার সময় মুজিব পরদেশী আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
এরপর আইনজীবী আব্দুর রহমান মিয়া মজিবুর রহমানের করা মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
মুজিব পরদেশীর প্রকৃত নাম মুজিবুর রহমান মোল্লা। আশির দশকে বাংলা লোকগানের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। শিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।


