

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং বিএনপি নেতা হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার মনোয়ার হোসেন জীবন ওরফে লেদুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (০২ আগস্ট) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালত প্রাঙ্গণে লেদুকে আনার সময় তার সমর্থক ও আদাবর এলাকার বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ‘লেদু ভাইয়ের মুক্তি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে তাকে হাজতখানার পেছনের গেট দিয়ে আদালতে নেওয়া হয়।
পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লেদুর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ২৮ জুলাই রাতে মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে র্যাব-২ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন র্যাব জানায়, তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ মোট ৩২টি মামলা রয়েছে।
র্যাবের তথ্য মতে, লেদু আদাবর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব-২-এর দাবি, গত ১ জুলাই আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষের জেরে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা ছুরিকাঘাতে নিহত হন। ওই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি লেদু। মামলায় গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, মূল হামলাকারী পারভেজের কাছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন লেদু।
র্যাব-২ আরও জানায়, লেদুর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও দারুস সালাম থানায় হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। এছাড়া ২০২১ সালে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ গ্রেফতারের ঘটনায় দায়ের হওয়া অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য, মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে লেদুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করে আসছিলেন।