রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

শেয়ারবাজারে কথিত কারসাজি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো শেষ করতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় আদালত নতুন করে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির নতুন এই তারিখ ঠিক করেন।

এর আগে ২৭ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় শুনানি পিছিয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সরকারি পরিচালক আমিনুল ইসলাম।

গত বছরের ১৭ মে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় সাকিব আল হাসান ছাড়াও সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান এবং আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে পরিকল্পিতভাবে লেনদেন চালাতেন। তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে এসব শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। পরে উচ্চমূল্যে শেয়ার বিক্রি করে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়, যার ফলে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন।

দুদকের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৫৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বেশি অবৈধ মুনাফা অর্জিত হয়, যা অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে বিবেচিত। মামলায় আরও বলা হয়েছে, আসামি আবুল খায়ের তার নিয়ন্ত্রিত অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থ পাচার করেছেন। এ কাজে তার স্ত্রী সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, আবুল খায়েরের নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৪২ কোটির বেশি টাকার সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ও সোনালী পেপারসের শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কথিত কারসাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দুদকের ভাষ্য, এসব লেনদেনের মাধ্যমে তিনি প্রায় ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মূলধনী মুনাফা অর্জন করেন, যা তদন্ত সংস্থার মতে অপরাধলব্ধ আয়।

তবে মামলাটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank