

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত ৩৫ জন প্রার্থী বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করেছেন। এসব মামলা শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন মো. জাকির হোসেন–এর একক বেঞ্চ।
মামলা গ্রহণের সময় আদালত সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ব্যালট, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী উপকরণ সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজয়ী প্রার্থীদের কাছে নোটিশ জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাকারীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর ২১ জন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর ১২ জন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি–এর একজন করে প্রার্থী।
বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মাদারীপুর–১ আসনের নাদিরা আক্তার, নীলফামারী–২ আসনের শাহরিন ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা–১ আসনের মো. শরীফুজ্জামান, ঢাকা–১১ আসনের এম এ কাইয়ুম, কুষ্টিয়া–৪ আসনের সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, ঢাকা–৫ আসনের মো. নবী উল্লাহসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার (খুলনা–৫), শামীম সাঈদী (পিরোজপুর–২), ডা. সুলতান আহম্মেদ (বরগুনা–২), ইলিয়াছ মোল্লা (নারায়ণগঞ্জ–২), ইকবাল হোসেন ভূইয়া (নারায়ণগঞ্জ–৩)সহ অন্যরা।
এ ছাড়া ঢাকা–১৩ আসনে মামুনুল হক (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) এবং চট্টগ্রাম–১৪ আসনে ওমর ফারুক (এলডিপি) নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছেন।
এদিকে ঢাকা–১৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হক এবং ঢাকা–৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিনের করা দুটি মামলার শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল।
গত ৮ মার্চ ওই দুটি মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঢাকা–১৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের আব্দুল বাতেন এবং ঢাকা–৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন সৈয়দ জিয়াউল আবেদিন।
আদালত নির্বাচন কমিশনের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন, নোটিশগুলো যেন দ্রুত সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, পিটিশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা বিজয়ী ঘোষিত প্রার্থীদের সহায়তা করেছেন এবং এ বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আবেদনে এমন অভিযোগও রয়েছে যে একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিজেই ব্যালট পেপারে সিল দিচ্ছেন—এমন তথ্য ও সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিছু কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ব্যালট বাতিল করার ঘটনাকেও ‘অস্বাভাবিক’ বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ–এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়ম সংক্রান্ত আবেদন শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ নির্ধারণ করেন। সেই অনুযায়ী বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চ এসব আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন।
মন্তব্য করুন
