

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বর্তমান সময়ে, চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা এখন আকাশছোঁয়া। প্রতিদিন নতুন নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করছে, ঠিক তেমনই ক্যারিয়ারের প্রতিযোগিতাটাও করে তুলছে বেশ কঠিন। সোজা কথায়, বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের সেই বিখ্যাত ‘সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট’ বা ‘যোগ্যতমের উদ্বর্তন’ তত্ত্ব যেন এখন আমাদের কর্মজীবনে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে।
২০২০-২১ সালের সেই কঠিন করোনা মহামারীর পর, আমাদের কাজের ধরন চিরতরে বদলে গেছে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে অফিসের কাজ- সবকিছুতেই এসেছে বড় পরিবর্তন।
বর্তমান চাকরি বাজারের তিনটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ - রিমোট জব, হাইব্রিড জব ও অন-সাইট জব।
‘রিমোট জব’(Remote Job) : বিভিন্ন চাকরির পোর্টালে প্রায়ই দেখা যায়, বিজ্ঞাপনের নিচে লেখা রয়েছে রিমোট জব, কিন্তু কোনো অফিসের ঠিকানা দেওয়া নেই। অনেকেই ভাবেন, চাকরি পেলে যাব কোথায়? আসলে এখানেই রয়েছে আসল টুইস্ট।
এক কথায় রিমোট জব মানে হলো বাড়িতে বসে কাজ। অর্থাৎ, আপনি সংস্থার একজন নিয়মিত কর্মী হিসেবেই কাজ করবেন, কিন্তু তার জন্য আপনাকে রোজ অফিসে যেতে হবে না। আপনি নিজের বাড়ি, পছন্দের কোনো ক্যাফে বা যেকোনো সুবিধাজনক জায়গা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অফিসের কাজ করতে পারবেন। মহামারীর পর বিশ্বজুড়ে এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক বেড়েছে।
যেমন- আমেরিকার মতো উন্নত দেশে ২০২০ সালের পর থেকে এই ধরনের কাজের সুযোগ প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই চাকরিতে ইন্টারভিউ থেকে শুরু করে প্রতিদিনের কাজের মূল্যায়ন- সবই হয় অনলাইনে। তাই এখানে সুযোগ পেতে হলে আপনার সিভি (CV) হতে হবে একেবারে নিখুঁত।
‘হাইব্রিড জব’ (Hybrid Job) : এটি মূলত রিমোট জবেরই একটা পরিমার্জিত রূপ, তবে এতে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত থাকে। এখানে আপনাকে সপ্তাহের কয়েকটা দিন বাড়ি থেকে কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়া হলেও, বাকি দিনগুলোয় অফিসে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। যেমন- কোনো সংস্থায় সপ্তাহে ৫ দিন কাজ হয়। হাইব্রিড মডেলে আপনি হয়তো ৩ দিন বাড়ি থেকে কাজ করলেন, আর বাকি ২ দিন আপনাকে অফিসে গিয়ে সহকর্মীদের সাথে বসে কাজ করতে হবে। এতে একদিকে যেমন আপনার যাতায়াতের খরচ বাঁচে, অন্যদিকে কোম্পানিরও অফিসের মেইনটেইন্যান্স বা লজিস্টিক খরচ অনেকটাই কমে যায়। ফলে নিয়োগকর্তা ও কর্মী- দুজনের জন্যই এটি বেশ সুবিধাজনক।
আর সবশেষে রয়েছে আমাদের অতি পরিচিত সেই পুরনো পদ্ধতি, যাকে কর্পোরেট ভাষায় বলা হচ্ছে ‘অন-সাইট জব’ (Onsite Job)। প্রতিদিন নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময়ে আপনাকে অফিসে গিয়েই কাজ করতে হবে। এর যেমন সামনাসামনি যোগাযোগের সুবিধা রয়েছে, তেমনই রয়েছে রোজকার ট্রাফিক জ্যাম আর যাতায়াতের ক্লান্তি।
