

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে চোখের সাদা অংশ, ত্বক ও মুখের ভেতর হলুদাভ হয়ে যেতে পারে। প্রস্রাবও গাঢ় হলুদ হতে পারে। এগুলো জন্ডিসের প্রধান লক্ষণ।
এ ছাড়া অরুচি, ক্ষুধামান্দ্য, বমি বমি ভাব বা বমি, দুর্বলতা, জ্বর জ্বর ভাব, পেটব্যথা এবং কখনো শরীরে চুলকানি হতে পারে। তবে শুধু এসব লক্ষণ দেখে জন্ডিসের কারণ নিশ্চিত করা যায় না। রক্তে বিলিরুবিন ও লিভারের এনজাইম পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষা করা হয়।
জন্ডিস কোনো আলাদা রোগ নয়; বরং শরীরে অন্য কোনো সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে সাধারণত চোখের সাদা অংশ, ত্বক, মুখের ভেতর এবং প্রস্রাবের রং হলুদ বা গাঢ় হয়ে যায়। এ অবস্থাকেই জন্ডিস বলা হয়।
জন্ডিস হলে শুধু চোখ বা ত্বক হলুদ হয়েছে কি না, সেটি দেখেই নিশ্চিত হওয়া যায় না। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষা করা জরুরি।
জন্ডিসের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। প্রধান কারণগুলো হলো-
ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস জন্ডিসের অন্যতম কারণ। হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়াতে পারে। হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমিত রক্তসহ নির্দিষ্ট সংক্রমণপথে ছড়ায়। এ ছাড়া অ্যালকোহল, কিছু ওষুধ, বিপাকীয় সমস্যা ও অটোইমিউন রোগের কারণেও লিভারে প্রদাহ হতে পারে।
জন্ডিসের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো চোখের সাদা অংশ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া। পাশাপাশি প্রস্রাবের রং স্বাভাবিকের তুলনায় গাঢ় হতে পারে।
আরও কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন-
এসব লক্ষণ দেখা দিলে রক্তে বিলিরুবিন ও লিভারের বিভিন্ন এনজাইম পরীক্ষা করা হয়। জন্ডিসের কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী হেপাটাইটিসের পরীক্ষাও দিতে পারেন।
গ্রামাঞ্চলে অরুচি বা শরীর খারাপ হলেই অনেক সময় একে ‘মেটে জন্ডিস’ বলা হয়। এরপর অনেকে ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবচ বা নানা ধরনের ঘরোয়া চিকিৎসার আশ্রয় নেন। তবে শুধু অরুচি হলেই জন্ডিস হয়েছে—এমন ধারণা ঠিক নয়।
চোখ ও ত্বক হলুদ হওয়া, প্রস্রাবের পরিবর্তনসহ অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
জন্ডিস হলে খাবারের ক্ষেত্রে অযথা কঠোর বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই। পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খেতে হবে। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাভাবিক পরিমাণে পানি পান করা উচিত। শুধু আখের রস, চিনির শরবত বা বিভিন্ন ধরনের জুস খেলে জন্ডিস দ্রুত ভালো হয়ে যায়—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং মাছ, মাংস, ডিমসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার একেবারে বাদ দিলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। তেল-মসলা একেবারে বন্ধ করারও প্রয়োজন নেই। তবে অতিরিক্ত তেলযুক্ত, ভারী ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
জন্ডিসের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ভর করে। তাই প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে—
জন্ডিস হলেই নিজে থেকে কবিরাজি ওষুধ, গাছগাছড়ার রস, অজানা ভেষজ উপাদান বা তথাকথিত ‘লিভার টনিক’ খাওয়া ঠিক নয়। এসব উপাদান কখনো কখনো লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া জন্ডিস হলে দিনে কয়েকবার গোসল করলে শরীরের হলুদভাব চলে যাবে—এমন ধারণারও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। স্বাভাবিকভাবে গোসল ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই যথেষ্ট।
জন্ডিসের সঙ্গে কিছু গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষ করে—
এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
চোখ বা ত্বক হলুদ দেখালেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে বিষয়টি অবহেলাও করা উচিত নয়। কারণ জন্ডিসের পেছনে সাধারণ সংক্রমণ থেকে শুরু করে লিভার বা পিত্তনালির জটিল সমস্যাও থাকতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।



