

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে তার স্পষ্ট প্রভাব পড়ে। অল্পতেই ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা, সামান্য পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং খাবারের প্রতি অরুচি আসার মতো লক্ষণগুলো মূলত রক্তাল্পতারই ইঙ্গিত দেয়।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে রক্তাল্পতাকে কেবল আয়রনের অভাব হিসেবে দেখা হলেও মনে রাখা প্রয়োজন, এটি কোনো একক রোগ নয়- বরং একটি উপসর্গ। শরীর পর্যাপ্ত আয়রন, ফোলেট বা ভিটামিন বি১২ না পেলে কিংবা শরীর এই উপাদানগুলো সঠিকভাবে শোষণ করতে না পারলে 'নিউট্রিশনাল অ্যানিমিয়া' দেখা দেয়।
তাই লক্ষণ দেখা দিলেই নিজে থেকে আয়রন ট্যাবলেট না খেয়ে প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নজর দেওয়া জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
হিমোগ্লোবিন বাড়াতে খাদ্যতালিকায় যা রাখবেন:
১. শুকনো ফল ও বাদাম: প্রাতরাশের সাথে কিশমিশ, অ্যাপ্রিকট, কাজু বা কাঠবাদাম রাখার অভ্যাস করুন। এগুলোতে থাকা দরকারী উপাদান ও ভিটামিন শরীরকে খাদ্য থেকে আয়রন শুষে নিতে সরাসরি সাহায্য করে।
২. সবুজ শাকসবজি ও ব্রকোলি: পালং শাক ও ব্রকোলিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ফোলেট এবং ভিটামিন বি১২ রয়েছে। বিশেষ করে ব্রকোলিতে আয়রনের পাশাপাশি বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং ম্যাগনেশিয়াম থাকায় এটি রক্তাল্পতা দূর করতে দারুণ কাজ করে।
৩. ডাল ও শিম জাতীয় খাবার: প্রতিদিনের পাত সতেজ রাখতে বিন বা বিভিন্ন ধরনের ডাল যোগ করুন। সিদ্ধ ছোলাও একটি চমৎকার বিকল্প; প্রতি কাপ সিদ্ধ ছোলায় প্রায় ৩ থেকে ৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে।
৪. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল: শরীরে আয়রন সঠিকভাবে শোষিত হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ভিটামিন সি আবশ্যক। তাই নিয়মিত আম, লেবু, আপেল ও পেয়ারার মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাওয়া উচিত।
খাদ্যাভ্যাসে এই সহজ পরিবর্তনগুলো আনার পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তাল্পতার মূল কারণটি শনাক্ত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।



