

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফাংশনাল নিউরোলজিক্যাল সিম্পটম ডিজঅর্ডার (FNSD) শিশুদের একটি জটিল কিন্তু নিরাময়যোগ্য স্নায়বিক সমস্যা, যা মূলত তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং মস্তিষ্কের কর্মপদ্ধতির সাময়িক সংকেত-বিভ্রান্তির ফলে সৃষ্টি হয়।
এতে শিশুর হাঁটাচলায় অসঙ্গতি, অঙ্গপ্রতঙ্গ অবশ হওয়া, খিঁচুনি বা কথা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো স্পষ্ট শারীরিক লক্ষণ দেখা গেলেও প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাগত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় (যেমন MRI বা EEG) কোনো গঠনগত ত্রুটি ধরা পড়ে না।
এটি শিশুর কোনো কাল্পনিক বা ইচ্ছাকৃত আচরণ নয়, বরং মানসিক উদ্বেগেরই একটি শারীরিক বহিঃপ্রকাশ। এ অবস্থায় অযথা আতঙ্কিত হয়ে বারবার অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিকিৎসক পরিবর্তন না করে, শিশু বিশেষজ্ঞ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সমন্বিত নির্দেশনায় শিশুর প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা, মানসিক চাপের উৎস চিহ্নিত করা এবং তাকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।
শিশুর ফাংশনাল নিউরোলজিক্যাল সিম্পটম ডিজঅর্ডার (FNSD): লক্ষণ, কারণ ও সমাধান
শিশুর সম্ভাব্য শারীরিক ও স্নায়বিক উপসর্গসমূহ:
১. হাঁটাচলায় সমস্যা: হঠাৎ হাঁটতে কষ্ট হওয়া, হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাওয়া বা পা শক্ত হয়ে যাওয়া।
২. হাত-পায়ের দুর্বলতা: হাত ও পা হঠাৎ অবশ বা দুর্বল মনে হওয়া।
৩. কথাবার্তায় বাধা: কথা আটকে যাওয়া, তোতলানো বা কথা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া।
৪. অস্বাভাবিক শারীরিক অনুভূতি: শরীরে কাঁপুনি দেওয়া এবং অস্বাভাবিক নড়াচড়া করা।
৫. খিঁচুনির মতো লক্ষণ: দেখতে মৃগীরোগের মতো মনে হলেও তা মূলত মৃগীরোগ নয়।
৬. দৃষ্টি ও ভাবনায় সমস্যা: চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা এবং হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
সমস্যাটি আসলে কী?
শিশুদের এই অস্বাভাবিক শারীরিক উপসর্গগুলোকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ফাংশনাল নিউরোলজিক্যাল সিম্পটম ডিজঅর্ডার বা কার্যকারী স্নায়বিক উপসর্গজনিত সমস্যা বলা হয়।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- শিশু কিন্তু ইচ্ছে করে বা ভান করে এমনটা করছে না। আমাদের মন ও শরীরের মানসিক চাপ সামলানোর প্রক্রিয়া এবং মস্তিষ্কের কাজের ধরনে সাময়িক বা অস্থায়ী পরিবর্তনের কারণে শরীরের স্নায়ুতন্ত্রে এই ধরনের শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাই এসব লক্ষণ অবহেলা করা যেমন ঠিক নয়, তেমনই অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ারও কিছু নেই।
কেন এমন হয়?
এর পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকে না, বরং একাধিক মানসিক ও পরিবেশগত চাপ কাজ করতে পারে:
পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপ: অতিরিক্ত পড়ার চাপ বা ফলাফলের ভয়।
পারিবারিক পরিবেশ: পরিবারে অশান্তি, ঝগড়াঝাঁটি বা বাবা-মায়ের অতিরিক্ত প্রত্যাশা।
সামাজিক চাপ ও বুলিং: স্কুলে বা বন্ধুদের কাছে অপমান, অবহেলা, শারীরিক বা মানসিক হয়রানি।
আবেগ চেপে রাখা: নিজের মনের ভয়, উদ্বেগ বা বিষণ্নতা গুছিয়ে প্রকাশ করতে না পারা।
অনেক সময় শিশু নিজেও বুঝতে পারে না যে তার মনের গোপন মানসিক চাপটিই শরীরে রোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
আমাদের করণীয়
অভিভাবকের দায়িত্ব:
সন্তানকে বিশ্বাস করুন: শিশুকে ভুলেও নাটক বা অভিনয় করছে বলে দোষারোপ বা লজ্জা দেবেন না।
স্বাভাবিক রুটিনে ফেরা: অতিরিক্ত ভয়ে শিশুর সব কাজকর্ম বন্ধ করে ঘরে আটকে রাখবেন না। নিরাপত্তা বজায় রেখে তাকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ঘুম, পড়াশোনা, খেলাধুলা ও বন্ধুদের সাথে মেশার সুযোগ করে দিন।
শিক্ষক ও স্কুলের ভূমিকা:
শিশুকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে অভিভাবক, শিক্ষক এবং চিকিৎসকের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্মিলিত সহযোগিতা সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।



