রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রেন টিউমারের ৫ লক্ষণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

মস্তিষ্কের টিউমার মূলত দুই প্রকারের হয়ে থাকে- প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। মস্তিষ্কের নিজস্ব কোষ বা আবরণী থেকে উৎপত্তি হওয়া টিউমারকে বলা হয় প্রাইমারি টিউমার (যেমন: গ্লিওমা, মেনিনজিওমা ইত্যাদি)।

অন্যদিকে, শরীরের অন্য কোনো অঙ্গের ক্যানসার কোষ রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়লে তাকে সেকেন্ডারি টিউমার বলে। যেমন: ফুসফুস বা লিভারের ক্যানসার থেকে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়া।

উপসর্গ ও সতর্কতার লক্ষণ

১. বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা:

  • দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকা মাথাব্যথা।
  • সকালের দিকে বা ঘুম ভাঙার পরপরই তীব্র মাথাব্যথা অনুভূত হওয়া।
  • হাঁচি, কাশি বা শরীরের ওপর চাপ পড়লে মাথাব্যথা বেড়ে যাওয়া।
  • সাধারণ কোনো ওষুধেই আরাম না পাওয়া।

২. দৃষ্টিশক্তির সমস্যা: চোখে হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা দেখতে সমস্যা হওয়া (মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ার কারণে চোখের পেছনে এমন প্রভাব পড়ে)।

৩. বমি ও গা গোলানো: কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই বমি হওয়া বা বমি বমি ভাব থাকা।

৪. খিঁচুনি: হঠাৎ খিঁচুনি বা শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠা।

৫. অচেতন হয়ে পড়া: হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলা বা অচেতন হয়ে যাওয়া।

শনাক্তকরণ ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

টিউমারের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সিটি স্ক্যান (CT Scan) বা এমআরআই (MRI)-এর মতো ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হতে হয়। চিকিৎসায় মূলত বায়োপসি, সার্জিক্যাল রিসেকশন (অস্ত্রোপচার), রেডিয়েশন থেরাপি ও কেমোথেরাপির সম্মিলিত প্রয়োগ করা হয়।

সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণের পূর্বে স্টেরিওট্যাকটিক চিকিৎসা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিউরোসার্জারিতে থ্রি-টি ইন্ট্রাঅপারেটিভ এমআরআই (3T Intraoperative MRI) একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী প্রযুক্তি, যা নিখুঁত অস্ত্রোপচারে বড় ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশে চিকিৎসা ও সঠিক সময়ের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশে ব্রেইন টিউমারের মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য অস্ত্রোপচারের সুবিধা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগসহ বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতালেও এ চিকিৎসা পাওয়া যায়।

সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। তাই উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ নিউরোসার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank