রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসা সুপারের সঙ্গে ছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫১ এএম
অভিযুক্ত মো. মিজানুর রহমান।
expand
অভিযুক্ত মো. মিজানুর রহমান।

বাবার মোবাইলে আপত্তিকর ভিডিও দেখে মাকে জানিয়ে দেয় এক কিশোর। এরপর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনির শিকার হয়ে পুলিশে সোপর্দ হয়েছেন এক মাদ্রাসা সুপার।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ‘হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সে’ এ ঘটনা ঘটে।

আটক হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান (৫০) বরুড়া উপজেলার পোমতলা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের সুপার এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক মিজানুর রহমানের একাধিক আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী তাকে মারধর করে মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে আটকে রাখে। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে চরবাকর-হোসেনপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ধাওয়া দিয়ে তাকে ধরে এনে পুনরায় গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

কমপ্লেক্সের বাবুর্চি মো. ইব্রাহিম জানান, অভিযুক্ত সুপারের ১২ বছর বয়সী ছেলে সিয়াম বাবার মোবাইলে এসব ভিডিও দেখে তার মাকে জানায়। পরবর্তীতে বন্ধুদের মাধ্যমে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিজানুর রহমান দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এলাকায় একাধিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলেও বারবার নারীঘটিত নানা অপরাধে জড়িয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। গত দেড় বছরেও তার বিরুদ্ধে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ভিকটিম কিশোরী জানায়, প্রায় দেড় বছর ধরে ওই শিক্ষক তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দিলেও তাকে অচেতন করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমানের দাবি, প্রকাশিত ভিডিওগুলো তার নয়। বিয়ে পড়ানো কেন্দ্র করে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। পাশাপাশি হামলার ঘটনার পর থেকে তার ছেলে সিয়াম নিখোঁজ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত মামলা দায়ের করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank