

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ক্ষয়ে যাওয়া বা সংক্রমিত দাঁত সরাসরি হৃদরোগের একমাত্র কারণ না হলেও, প্যারোডন্টাল ডিজিজ বা মারাত্মক মাড়ির রোগ যে হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়- তা চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।
দাঁতের ক্ষয় (Tooth Decay) যখন গভীর সংক্রমণে রূপ নেয়, তখন মাড়ির টিস্যু এবং হাড়ের মারাত্মক ক্ষতি হয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় প্যারোডনটাইটিস (Periodontitis) বলা হয়।
যখন মাড়িতে এই প্রদাহ বা সংক্রমণ তৈরি হয়, তখন মাড়ির ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মুখগহ্বরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া (যেমন- Porphyromonas gingivalis) রক্তপ্রবাহে সহজে প্রবেশ করার সুযোগ পায়। রক্তপ্রবাহে মিশ্রিত এই ব্যাকটেরিয়া পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'ব্যাকটেরিমিয়া' (Bacteremia) নামে পরিচিত।
রক্তে ছড়িয়ে পড়া এই ব্যাকটেরিয়া হৃদযন্ত্রের ধমনীর ভেতরের দেয়ালে বাসা বাঁধতে পারে এবং সেখানে প্রদাহের (Inflammation) সৃষ্টি করে।
এই প্রদাহ রক্তনালীতে চর্বি বা প্লাক জমতে (Atherosclerosis) উদ্দীপনা জোগায়, যা ধমনীকে সংকুচিত করে দেয়। ফলে রক্তজমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে এবং পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা এন্ডোকার্ডাইটিস (হৃদযন্ত্রের ভেতরের স্তরের সংক্রমণ)-এর মতো প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি হয়।
একইভাবে, মাড়ির রোগের সাথে ডায়াবেটিসের সম্পর্কটি দ্বিমুখী। রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়া প্যারোডন্টাল ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোটিন (সাইটোকাইন) বাড়িয়ে দেয়, যা কোষের ইনসুলিন গ্রহণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় (Insulin Resistance)। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত, তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে, ফলে সামান্য দাঁতের ক্ষয় থেকেই মারাত্মক মাড়ির সংক্রমণ ঘটে।
সংক্ষেপে, মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য কেবল হাসির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পুরো শরীরের সার্বিক সুস্থতার সাথে গভীরভাব যুক্ত। তাই দাঁতের ক্ষয় বা মাড়ির রক্তপাতকে ছোট করে না দেখে সময়মতো ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।


