শনিবার
১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চারটি শব্দ লিখতেও ব্যর্থ শিক্ষার্থীরা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের লিখতে না পারার করুণ দশা দেখে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। শিক্ষার্থীরা একটি সহজ লেখার অনুশীলনও শেষ করতে না পারায় তিনি সবার সামনে কেঁদে ফেলেন।

ড্যারিয়াস উইলিয়ামস হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হুইটলি হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। স্কুলের দ্বিতীয় দিনের প্রথম ক্লাসেই শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দুর্বল দক্ষতা দেখে তিনি ভেঙে পড়েন। মঙ্গলবার দুপুরের খাবারের বিরতিতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে উইলিয়ামস জানান, তিনি টানা তিন ঘণ্টা ক্লাস নেওয়ার পর শ্রেণিকক্ষের মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতা এতটাই দুর্বল ছিল যে, তাদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি।

উইলিয়ামস নিউ এডুকেশন সিস্টেমের ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন বিভাগের একজন কর্মী। তিনি জানান, তার ক্লাসে থাকা উচ্চ মাধ্যমিকের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের দুটি অনুচ্ছেদ পড়তে দিয়েছিলেন। এরপর একটি বাক্য সম্পূর্ণ করতে বলেন। তবে বাক্যটির বেশিরভাগ অংশ তিনি আগেই লিখে দিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেই বাক্যটিও সম্পূর্ণ করতে না পারায় তিনি হতবাক হয়ে যান।

উইলিয়ামস বলেন, ‘আমি তাদের জন্য মূলত বাক্যটি প্রায় পুরোপুরিই লিখে দিয়েছিলাম। এরা ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। অথচ তারা চারটি শব্দও পূরণ করতে পারেনি। মাত্র চারটি শব্দ! তিনি আরো বলেন, ‘আমি তাদের লিখার বিসয়টি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম।

আমরা একসঙ্গে বিষয়টি চিহ্নিত ও বিশ্লেষণ করেছি। এমনকি প্রশ্ন দেওয়ার আগেই আমি তাদের উত্তরগুলোও বলে দিয়েছিলাম। তারপরও তারা কাজটি করতে পারেনি। সমস্যাটা কোথায়, আমি সত্যিই জানি না।’ হতাশা প্রকাশ করে উইলিয়ামস বলেন, ‘এটা স্কুলের মাত্র দ্বিতীয় দিন। অথচ আমার ক্লাসে এমন শিক্ষার্থী আছে, যারা ঠিকমতো পড়তে পারে না। এমনকি শেষ বর্ষের কিছু শিক্ষার্থী লিখতেও পারে না। তারা লিখতে পারে না।’

এ কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। গাল বেয়ে অশ্রু ঝরতে থাকা অবস্থায় উইলিয়ামস বলেন, তার শিক্ষার্থীরা কথা বলতে পারে, যুক্তি দিতে পারে এবং নিজেদের যুক্তির পক্ষে ব্যাখ্যাও দিতে পারে। কিন্তু সেই দক্ষতা তারা লিখিত কাজে প্রয়োগ করতে পারছে না।

তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর উইলিয়ামস সমালোচনার মুখে পড়েন। সমালোচকেরা প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে কথা বলার মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার আছে কি না।

শিক্ষকতার পাশাপাশি উইলিয়ামস খণ্ডকালীন রান্নাবিষয়ক কনটেন্টও তৈরি করেন। গত এপ্রিল মাসে তিনি বার্কলি কলেজ অব মিউজিক থেকে অর্জন করা তার দ্বিতীয় স্নাতক ডিগ্রি প্রকাশ্যে দেখান। এরপর তিনি জানান, তিনি আমেরিকান কলেজ অব এডুকেশনে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন। সেখানে তিনি কারিকুলাম অ্যান্ড ইনস্ট্রাকশন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

উইলিয়ামস আরো জানান, তার বেশ কয়েকটি পেশাগত সনদ রয়েছে। এর মধ্যে টেক্সাস অঙ্গরাজ্য এবং টেক্সাস এডুকেশন এজেন্সির সনদও রয়েছে। সমালোচনার জবাবে প্রকাশ করা একটি পরবর্তী ভিডিওতে উইলিয়ামস বলেন, ‘আমার সব সনদই ঠিকঠাক রয়েছে।’

উইলিয়ামস বলেন, ‘আপনাদের মধ্যে যারা মনে করেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য আমার যোগ্যতা নিয়ে সমস্যা আছে, তারা দায়িত্ব নিয়ে দেখান। আপনারা সনদ নিন, এসব উচ্চ বিদ্যালয়ে যান, একটি শ্রেণিকক্ষ নিন। প্রতি ক্লাসে ২২ জন শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়িয়ে পড়ান। তারপর আমি দেখব, আপনারা কতটা ভালো করতে পারেন।’

শ্রেণিকক্ষে উইলিয়ামসের কান্নায় ভেঙে পড়ার ঘটনার কয়েক দিন পর নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দক্ষতা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, গত শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।

এ সপ্তাহে রাজ্যের শিক্ষা বিভাগ প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় শ্রেণির ৫৭ শতাংশ, চতুর্থ শ্রেণির ৫২ শতাংশ এবং পঞ্চম শ্রেণির ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ আর্টস (ইএলএ) পরীক্ষায় ফেল করেছে।

শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৪৮ শতাংশ পরীক্ষায় নির্ধারিত দক্ষতার স্তরে পৌঁছেছে। আগের বছরের তুলনায় এই হার ৫ শতাংশ কমেছে, যা শিক্ষা বিভাগ ‘উল্লেখযোগ্য’ পতন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank