

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শিশুর খেলনা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি শিশুর শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ভুল বা নিম্নমানের খেলনা শিশুর জন্য দুর্ঘটনা, শ্বাসরোধ, বিষক্রিয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই শিশুর খেলনা কেনার আগে নিরাপত্তা, মান এবং বয়স উপযোগিতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিটি খেলনার গায়ে নির্ধারিত বয়সসীমা উল্লেখ থাকে। তাই শিশুর বয়স ও বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ খেলনা নির্বাচন করুন। ছোট শিশুর জন্য বড়দের খেলনা ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
খেলনাটি কী উপাদানে তৈরি, কীভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং কী ধরনের সতর্কতা অনুসরণ করতে হবে—এসব তথ্য লেবেলে উল্লেখ থাকে। খেলনা কেনার আগে এসব তথ্য অবশ্যই পড়ে নিন।
শিশুরা খেলনা মুখে দেওয়ার প্রবণতা রাখে। তাই খেলনায় ছোট, খুলে যাওয়া বা ধারালো অংশ থাকলে তা শ্বাসরোধ বা আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নিরাপদ খেলনা নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নন-টক্সিক (Non-Toxic) উপাদানে তৈরি খেলনা বেছে নিন। নিম্নমানের কিছু প্লাস্টিকের খেলনায় সিসা (Lead), ক্যাডমিয়াম (Cadmium) বা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
অতিরিক্ত শব্দ করে এমন খেলনা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে শিশুর শ্রবণশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শব্দের মাত্রা সহনীয় কি না দেখে খেলনা কিনুন।
ব্যাটারির ঢাকনা শক্তভাবে লাগানো আছে কি না নিশ্চিত করুন। ছোট ব্যাটারি (Button Cell) শিশু গিলে ফেললে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অতিরিক্ত কম দামের খেলনার মান ও নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। তাই বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড বা নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে খেলনা কেনাই নিরাপদ।
ছোট কাচ, মার্বেল বা ভঙ্গুর অংশযুক্ত খেলনা শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলো গিলে ফেলা বা ভেঙে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পাজল, ব্লক, আঁকার সামগ্রী, বিজ্ঞানভিত্তিক খেলনা বা সমস্যা সমাধানে সহায়ক খেলনা শিশুর চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা এবং শেখার আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করে।
শিশুর খেলনা নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন। বিশেষ করে যেসব খেলনা শিশুরা মুখে দেয়, সেগুলো পরিষ্কার রাখলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
বিশেষ করে তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের খেলার সময় অভিভাবকের উপস্থিতি ও নজরদারি জরুরি। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
শিশুর খেলনা কেনার আগে নিরাপত্তা, মান, উপাদান ও বয়স উপযোগিতা যাচাই করা প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব। সচেতনভাবে নিরাপদ ও মানসম্মত খেলনা নির্বাচন করলে শিশুর খেলা হবে আনন্দময়, নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর।