

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ভালোবাসা দিবস। একই দিনে বাংলা পঞ্জিকায় পহেলা ফাল্গুন, ঋতুরাজ বসন্তের সূচনা। ঋতুর পরিবর্তন আর হৃদয়ের আবেগ মিলেমিশে দিনটিকে দিয়েছে বিশেষ তাৎপর্য।
পহেলা ফাল্গুন বাঙালির নিজস্ব ঋতুচক্রভিত্তিক একটি উৎসব। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে ফাল্গুন মাসের প্রথম দিন বসন্তের আগমনী বার্তা বহন করে। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে প্রকৃতি নতুন রূপে সেজে ওঠে। গাছে গাছে পলাশ ও শিমুলের রঙিন ফুল, কোকিলের ডাক, হালকা উষ্ণতার স্পর্শ মিলিয়ে বসন্ত হয়ে ওঠে নবজাগরণ ও প্রাণের প্রতীক।
ষাটের দশক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে পহেলা ফাল্গুন উদযাপন সাংস্কৃতিক রূপ পেতে শুরু করে। হলুদ ও বাসন্তী পোশাক, ফুলের অলংকার, গান, কবিতা ও আবৃত্তির মাধ্যমে বসন্তবরণ ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এখন রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়।
অন্যদিকে ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস নিয়ে রয়েছে নানা মত। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী এর সূত্রপাত প্রাচীন রোমে। তৃতীয় শতকে সম্রাট ক্লডিয়াসের সময় ভ্যালেনটাইন নামে এক খ্রিস্টান ধর্মযাজক গোপনে প্রেমিক যুগলের বিয়ে পড়াতেন। শাসকের নির্দেশ অমান্য করায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার স্মরণে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে পালিত হতে থাকে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় স্মরণানুষ্ঠান থেকে এটি রূপ নেয় ভালোবাসা ও স্নেহ প্রকাশের বৈশ্বিক দিনে। পশ্চিমা বিশ্বে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশেও দিবসটি পরিচিতি পেতে শুরু করে। গণমাধ্যমের বিস্তার, নগর সংস্কৃতির বিকাশ ও বিশ্বায়নের প্রভাবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দিনটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়।
ভালোবাসা ও বসন্ত দুটি ভিন্ন ধারার প্রতীক হলেও তাদের মূল সুর এক। উভয়ই নতুন সূচনা, পুনর্জাগরণ ও অনুভূতির বিকাশের বার্তা দেয়। সম্পর্কের উষ্ণতা এবং প্রকৃতির নবকুঁড়ির উন্মেষ মিলিয়ে আজকের দিনটি হয়ে উঠেছে আবেগ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক বর্ণিল আয়োজন।
মন্তব্য করুন

