মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ম্যাচিউরড’ পুরুষ যেভাবে মা ও স্ত্রীর মাঝে সমতা রাখেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

যৌথ পরিবারে বিয়ের পর স্বামী, স্ত্রী এবং বাবা-মায়ের ত্রিপক্ষীয় সম্পর্ক পরিচালনা করা অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিয়ের পর স্ত্রীর পাশাপাশি বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণও গভীরভাবে যুক্ত থাকে।

বিশেষ করে একই ছাদের নিচে বসবাস করলে সংসারের নিয়ম, সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি থাকে।

ফলে অনেক সময়ই একটি অদৃশ্য টানাপোড়েন তৈরি হয়- স্বামী কার পক্ষ নেবেন, বাবা-মা নাকি স্ত্রী? বাবা-মাকে সম্মান করা এবং প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটা সন্তানের দায়িত্ব।

কিন্তু কোনো পরিণত ও মূল্যবোধসম্পন্ন পুরুষ তার স্ত্রীকে কখনো এ কথা বলতে পারেন না যে, ‘আমার বাবা-মা-ই শেষ কথা, তাদের সাথে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া তোমার গতি নেই।’

কারণ দায়িত্ব পালন করা আর স্ত্রীকে জোরপূর্বক মানিয়ে নিতে বাধ্য করা এক বিষয় নয়। কোনো সমস্যা দেখা দিলে দায়িত্বশীল পুরুষের কাজ হলো উভয় পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলে সমাধানের পথ খোঁজা।

বিয়ের পর একজন নারী যখন নতুন পরিবেশে আসেন, তখন তাকে বহু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। শুরুতেই যদি স্বামী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, তবে স্ত্রীর মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।

নিজের মতামতের গুরুত্ব না পেয়ে তিনি নিজেকে একা ও অসহায় মনে করতে শুরু করেন। এই অবহেলা থেকেই দম্পতির মাঝে তৈরি হয় অভিমান, মানসিক দূরত্ব এবং চূড়ান্ত তিক্ততা।

এখানে মূল বিষয়টি ‘কে আগে, কে পরে’ সেই প্রতিযোগিতা নয়। স্ত্রীকে বাবা-মায়ের ওপরে রাখা বা বাবা-মাকে স্ত্রীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া- কোনোটাই সঠিক সমাধান নয়। আসল বিষয় হলো পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝা এবং উভয় সম্পর্ককে সমান সম্মান দেওয়া।

জরুরি প্রয়োজনে বাবা-মায়ের পাশে যেমন দাঁড়াতে হবে, ঠিক তেমনি দাম্পত্য বা সংসারের যেকোনো সিদ্ধান্তে স্ত্রীর মতামতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। দুটি সম্পর্কের মাঝে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করাই একজন আদর্শ স্বামীর মূল দায়িত্ব।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন