

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালু করা হয়েছে। শহরের গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও হয়রানি মুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করাই এই উদোগের মূল উদ্দেশ্য।
সম্পূর্ণ গোলাপি রঙের এই সার্ভিসটির বিশেষত্ব হলো- এসব বাসে যাত্রীদের পাশাপাশি চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবেও নারীরাই দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ব্যস্ত রুটসহ চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় এই সেবা বিস্তৃত করা হয়েছে। এটি যেমন নারীদের দৈনন্দিন যাতায়াতকে নিরাপদ ও সহজ করবে, তেমনি কর্মক্ষেত্রে ও পরিবহন খাতে নারীদের ক্ষমতায়নেও একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে যে নারীদের বাসের রঙ পিংক কেন? এটার কোন নির্ধারিত কারণ নেই। তবে গঠনগতভাবে এর কিছু সম্ভাব্য কারণ হতে পারে-
১. আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও প্রতীক: আন্তর্জাতিকভাবে পিংক বা গোলাপি রঙকে নারী সচেতনতা, অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিবহন ব্যবস্থায় এই রঙের ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই বোঝানো যায় যে এটি নারীদের জন্য নির্ধারিত বা সংরক্ষিত।
২. দ্রুত শনাক্তকরণ: দূর থেকে বা ভিড়ের মধ্যে নারীরা যাতে সহজেই বাসটি চিনতে পারেন এবং নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, সেজন্য দৃশ্যমান ও স্বতন্ত্র রঙ হিসেবে গোলাপি ব্যবহার করা হয়।
৩. মানসিক স্বস্তি ও নিরাপত্তার আবহ: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গোলাপি বা হালকা রঙ মনস্তাত্ত্বিকভাবে শান্ত ও নিরাপদ বোধ তৈরি করে।
পাবলিক পরিবহনে যৌন হয়রানি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়িয়ে নারীদের জন্য একটি ইতিবাচক ও নিরাপদ পরিবেশের বার্তা দিতে এই রঙ বেছে নেওয়া হয়।
৪. সচেতনতা বৃদ্ধি: রাস্তায় এই রঙের বাস চলাচল করলে সাধারণ পথচারী ও চালকদের মধ্যেও নারীদের সংরক্ষিত আসনের মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে পরোক্ষ সচেতনতা তৈরি হয়।
এটি কেবল একটি সৌন্দর্যমূলক নির্বাচন নয়, বরং নিরাপত্তা, সহজ শনাক্তকরণ ও সামাজিক সচেতনতা তৈরির একটি বিশ্বব্যাপী নেওয়া কৌশলগত উদ্যোগ।


