

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নীরবে কাজ করে যাওয়া প্রাণীদের কথা বলতে গেলে ‘গাধার’ নাম সবার আগে আসে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের মালপত্র বহন, কৃষিকাজ ও যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে প্রাণীটি। অথচ পরিশ্রমী এই সঙ্গীটিকেই প্রায়শই উপহাস কিংবা অবহেলার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর বার্তা নিয়েই বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব গাধা দিবস’।
প্রতি বছর ৮ মে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এর লক্ষ্য, মানুষের জীবনে গাধার অবদানকে সামনে আনা এবং প্রাণীটির প্রতি সহমর্মিতা বাড়ানো। দিবসটি চালুর উদ্যোগ নেন মরুভূমির প্রাণী নিয়ে কাজ করা গবেষক আর্ক রাজিক। তাঁর মতে, সভ্যতার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও গাধা কখনোই যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি।
ইতিহাস বলছে, আধুনিক যন্ত্রের আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই মানুষের ভরসার বাহন ছিল গাধা। দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়া, কম খাবারে টিকে থাকা এবং ভারী বোঝা বহনের সক্ষমতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো প্রাণীটির ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক ও পাহাড়ি এলাকায় গাধা অনেক মানুষের জীবিকার অংশ।
প্রাণীটি নিয়ে নানা মজার তথ্যও রয়েছে। কিছু প্রজাতির গাধা ঘণ্টায় প্রায় ৩১ মাইল গতিতে ছুটতে পারে। গড় আয়ু ৫০ বছরের বেশি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয় গাধা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাধাকে শুধু ভারবাহী প্রাণী হিসেবে দেখলে ভুল হবে। মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে এটি গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বিশ্ব গাধা দিবস কেবল একটি প্রাণীকে ঘিরে আয়োজন নয়, বরং অবহেলিত শ্রম ও নীরব অবদানের প্রতি সম্মান জানানোরও একটি উপলক্ষ।
