

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলা চলচ্চিত্রের রূপ রূপান্তর ও ভাষা-ঋতুর বাঁকবদলে দেওয়া এক প্রথাভাঙা স্রষ্টা ঋতুপর্ণ ঘোষ। আজ এই নন্দিত চলচ্চিত্রকারের জন্মদিন, বেঁচে থাকলে পা দিতেন ৬৩ বছরে। তিনি কেবল সেলুলয়েডে কিছু গল্পই আঁকেননি, বরং মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও জীবনের এমন সব সূক্ষ্ম অনুভূতি তুলে ধরেছেন, যা সাধারণত আড়ালেই থেকে যায়।
অনন্য জীবন ও ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা
১৯৬৩ সালের ৩১ আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন ঋতুপর্ণ। তাঁর বাবা সুনীল ঘোষ ছিলেন একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রকর। অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষ করে তিনি পেশাজীবন শুরু করেন কপিরাইটিং দিয়ে। আটের দশকে একজন সফল কপিরাইটার হিসেবে সুনাম কুড়ানোর পর তিনি হাত দেন চলচ্চিত্র পরিচালনায়।
শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও চিন্তাভাবনা, সাজপোশাক ও যাপনে ঋতুপর্ণ ছিলেন ভিড়ের চেয়ে আলাদা ও সম্পূর্ণ নিজস্বতায় উজ্জ্বল। নানা সামাজিক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়েও তিনি আজীবন অটল ছিলেন নিজের সৃজনশীল স্বপ্নে।
সেলুলয়েডের সৃষ্টিশীল যাত্রা
১৯৯২ সালে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে ‘হিরের আংটি’ দিয়ে তার পরিচালনার খাতা খোলে। এর দু’বছর পরই মুক্তি পায় ‘উনিশে এপ্রিল’, যা তাকে এনে দেয় বিপুল জনপ্রিয়তা ও সমালোচকদের প্রশংসা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তাঁর হাত ধরে একের পর এক কালজয়ী সিনেমা নির্মিত হয়েছে-
‘দহন’, ‘বাড়িওয়ালি’, ‘অসুখ’, ‘উৎসব’, ‘তিতলি’, ‘শুভ মহরৎ’, ‘দোসর’ ‘চোখের বালি’, ‘অন্তরমহল’, ‘নৌকাডুবি’, ‘সত্যান্বেষী’ ‘দ্য লাস্ট লিয়ার’, ‘খেলা’, ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’, ‘আবহমান’, ‘চিত্রাঙ্গদা’।
স্বীকৃতি ও প্রস্থান
ভারতীয় চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন বিভাগে ১২টি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনেও তিনি সমাদৃত হয়েছেন।
২০১৩ সালের ৩০ মে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে এই মহীরূহ চিরবিদায় নেন। শারীরিক জটিলতা ও অকালপ্রস্থান তার জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দিলেও, বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি যে স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করে গেছেন, তা অমলিন।


