

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের মেধাবিকাশের লক্ষ্য নিয়ে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর সিনেমা এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশটি প্রেরণ করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এতে বিবাদী করা হয়েছে।
সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা ও সামাজিক অপরাধের প্রভাব
আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়, বর্তমানে দেশীয় চলচ্চিত্র ও নাটকে মাত্রাতিরিক্ত প্রেম ও রোমান্টিক কনটেন্টের আধিক্য চরম সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।
পাশাপাশি, এসব নাটক-সিনেমায় পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক ও মহিমান্বিতভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে, যা সমাজের চিরাচরিত মূল্যবোধকে বিনষ্ট করছে। গণমাধ্যমে এ জাতীয় বিষয়ের অবাধ প্রদর্শনী দেশে পরকীয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়।
সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ ও আইনি যুক্তি
নোটিশে সংবিধানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ তুলে ধরে আইনি যুক্তি প্রদান করা হয়:
অনুচ্ছেদ ২১(১): আইন ও সংবিধান মেনে চলা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা দেশের প্রতিটি নাগরিকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
অনুচ্ছেদ ৩৯: বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকার হলেও, তা শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষ।
অনুচ্ছেদ ২৩: জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
সৃজনশীল ও গঠনমূলক বিনোদনের দাবি
প্রথাগত ও কেবল প্রেমকেন্দ্রিক বিনোদন বন্ধের পাশাপাশি নোটিশে বিকল্প ও গঠনমূলক মিডিয়া নীতিমালার জোর দাবি জানানো হয়।
একটি দেশপ্রেমিক ও সুশিক্ষিত জাতি গঠনে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষাভিত্তিক নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং সম্প্রচার বাধ্যতামূলক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।


