

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস (BTS) আসন্ন ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস বয়কটের ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে নতুন করে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংগীতের এই জমকালো আসরে নিজেদের কোনো গান বা অ্যালবাম জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যান্ডটির সাত সদস্য- আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জংকুক।
সম্প্রতি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের আয়োজক প্রতিষ্ঠান 'দ্য রেকর্ডিং একাডেমি' ২০২৭ সালের আসর থেকে ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ নামে নতুন একটি বিভাগ চালুর ঘোষণা দেয়।
কে-পপ, জে-পপ, সি-পপসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের পপ সংগীতকে স্বীকৃতি দেওয়াই ছিল এই বিভাগের মূল লক্ষ্য। অনেকে এটিকে এশীয় শিল্পীদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ মনে করলেও একটি বড় অংশ বিষয়টির সমালোচনা করছেন।
তাদের মতে, মূল প্রতিযোগিতা থেকে আলাদা করে এমন বিভাগ চালু করার মাধ্যমে সমতার বদলে মূলত এশীয় শিল্পীদের একপ্রকার বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত করা হচ্ছে।
এই বিভাজনের প্রতিবাদ জানিয়ে বিটিএস সরাসরি গ্র্যামিতে গান না পাঠানোর ঘোষণা দেয়। এক বিবৃতিতে তারা জানায়:
‘আমরা এ বছর গ্র্যামির বিবেচনার জন্য কোনো গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, সংগীতকে কখনো অঞ্চল বা ভাষার ভিত্তিতে ভাগ করা উচিত নয়। একটি গান তার নিজস্ব গুণেই বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং ভালোবাসা পাবে।’
২০১৯ সাল থেকেই বিটিএসের সাত সদস্যই রেকর্ডিং একাডেমির অফিশিয়াল ভোটিং সদস্য। অতীতে একাধিকবার গ্র্যামিতে মনোনয়ন পেলেও এখন পর্যন্ত কোনো ট্রফি জেতা হয়নি তাদের।
তবে এবার হিসাব ছিল ভিন্ন। চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত বিটিএসের নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং মার্কিন বিলবোর্ড চার্টের শীর্ষস্থান দখল করে নেয়।
সংগীত বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৭ সালের গ্র্যামিতে বিটিএসের প্রথম ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল।
পুরস্কার জয়ের এত বড় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও গ্র্যামির নতুন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার এই সাহসী পদক্ষেপ সংগীত বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।