

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মস্তিষ্কে ক্যানসার ধরা পড়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন মার্কিন রক ব্যান্ড এলসেভেন (L7)–এর কিংবদন্তি বেসিস্ট জেনিফার ফিঞ্চ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ব সংগীতাঙ্গনে।
চলতি মাসের শুরুতে জেনিফারের মস্তিষ্কে ক্যানসার শনাক্ত হয়। এরপর তার চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে সহায়তা করতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্ত-অনুরাগীরা তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেন। তবে সেই প্রচেষ্টা চলাকালেই সপ্তাহের শেষদিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জেনিফারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ব্যান্ড এলসেভেন তাদের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা আমাদের প্রিয় ব্যান্ডমেট, বোন এবং বন্ধু জেনিফার ফিঞ্চকে হারিয়ে গভীরভাবে শোকাহত। তার অদম্য মানসিক শক্তি, সৃজনশীলতা এবং নিষ্ঠা এলসেভেনকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার অবদান আমাদের জীবনকে চিরদিনের জন্য বদলে দিয়েছে।”
ব্যান্ডটি আরও জানায়, “জেনিফার ছিলেন একেবারেই ব্যতিক্রমী একজন মানুষ। তিনি সবসময় নিজের বিশ্বাস ও শর্তে জীবনযাপন করেছেন। সংগীত, শিল্প এবং তার ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের জীবনে তিনি গভীর প্রভাব রেখে গেছেন। আমরা তাকে গভীরভাবে ভালোবাসতাম, আর তিনি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। শান্তিতে ঘুমাও, প্রিয় বন্ধু।”
জেনিফার ফিঞ্চের মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে তার সহশিল্পী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সংগীতে তার অবদান এবং ব্যক্তিত্ব তাকে দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখবে।
রক মিউজিকের ইতিহাসে জেনিফার ফিঞ্চ একটি অতি পরিচিত নাম। ১৯৮৭ সালে তিনি ‘এলসেভেন’ ব্যান্ডে যুক্ত হন। এরপর ব্যান্ডের প্রতিটি উত্থান-পতনের গল্পে তিনি ছিলেন অন্যতম কাণ্ডারি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন বিশ্বজুড়ে গ্রঞ্জ ও ‘রায়ট গার্ল’ আন্দোলনের জোয়ার বইছিল, তখন এলসেভেন তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র ঘরানা ধরে রেখে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিশেষ করে, ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক ‘রিডিং ফেস্টিভ্যাল’-এ বিখ্যাত ব্যান্ড নির্ভানার সঙ্গে একই মঞ্চে এলসেভেনের সেই পারফরম্যান্স আজও রক ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে লেখা রয়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে শারীরিক অসুস্থতা আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যান্ডের বহুল আলোচিত ‘লাস্ট হুররাহ ট্যুর’-এর ইউএস লেগ থেকে বাধ্য হয়ে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন জেনিফার। মূলত এই মরণব্যাধি ক্যানসারই এই রক তারকার মঞ্চ ও তার প্রিয় গিটারের মাঝে একমাত্র দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।