শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার বাবা বিয়ে করেছে ফেসবুকে জানলাম 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

২০২৫ সালে বিয়ে হলেও ২০ জানুয়ারি, মঙ্গলবার হিরণ চট্টোপাধ্যায় তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আনেন। ভারতের বেনারসের ঘাটে রীতি মেনে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন তিনি। অথচ অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়কের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এখনও তাঁদের ডিভোর্স হয়নি। এই পরিস্থিতিতে এবার গোটা ঘটনায় পুলিশের দ্বারস্থ হলেন অনিন্দিতা।

মঙ্গলবার মেয়ে নিয়াশা চট্টোপাধ্যায় ও আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যান অনিন্দিতা। তাঁর আইনজীবী জানান, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এফআইআর নম্বর পাওয়ার পরই তাঁরা বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

এরই মধ্যে ঋতিকা গিরি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে দাবি করেন, হিরণের সঙ্গে তাঁর পাঁচ বছরের সম্পর্ক রয়েছে। অনিন্দিতা মিথ্যে কথা বলছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি ঋতিকার দাবি, ২০২৫ সালে হিরণ নাকি অনিন্দিতার সঙ্গে থাকেননি। এমনকি, নিজের বয়স নিয়েও ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন ঋতিকা।

এই সমস্ত অভিযোগের পর থানার বাইরে দাঁড়িয়েই ক্ষোভ উগরে দেন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। তিনি বলেন, “ও নিজেই স্বীকার করেছে যে ওরা বিয়ে করেছে, যেটা বেআইনি। এখান থেকেই সব প্রমাণ হয়ে যায়। আমার মেয়ে পাশে আছে, আর কী বলব! লজ্জা করছে। আমার স্বামী আমার সঙ্গে কতদিন ছিল বা ছিল না, সেটার ব্যাখ্যা ও দেবে? বিয়েটা তো আমার, আমার বর কতদিন আমার কাছে ছিল, সেটা ও বলবে কেন?”

অনিন্দিতা আরও জানান, তিনি যেখানে থাকেন সেখানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে তিনি প্রমাণ করতে পারবেন হিরণ কতদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি প্রমাণ করে দেব হিরণ কতদিন ছিল। ওর কথার কোনও মূল্য নেই।”

এখন সিম্প্যাথি কার্ড খেলছে যে ও অসুস্থ। আমি আরও একটা লজিক বলি, পাঁচ বছর আগে, হিরণ এই সময় পৌঁছায়নি খড়গপুরে। ভোট কোন সময় হয়েছে? ২০২১ এ। তাহলে পাঁচ বছর তো হয়নি এখনও। ঋতিকাকে হিরণ চট্টোপাধ্যায় চিনতই না তখন। ক্যান্ডিডেট হিসেবে নির্বাচন হয়নি হাস্যকর কথা।"

হিরণের মেয়েও মুখ খোলেন এদিন বাবার বিরুদ্ধে। বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। নিয়াশা বাবার দ্বিতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে বলেন, "মেয়ে হয়ে আর কী বলব!নিজেই কাল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেখলাম। মা আমায় ফোন করে বলল তুই একবার ফোন খুলে দেখ, তোকে কিছু পাঠিয়েছি। তখন খুলে দেখি বাবার বিয়ের ছবি। মা ফোন দেখে আর কাঁদছে। কোনও মেয়ে কী বলবে এটা দেখে? বাবা কী করছে না করছে সেটা সামাজিক মাধ্যমে থেকে আমায় জানতে হচ্ছে। যখন অন্য বন্ধুদের বাবাকে দেখি, তখন ভাবি আমার বাবা এসব করছে। উনি বাবা, স্বামী সব হিসেবেই ব্যর্থ।"

অনিন্দিতাকে ডিভোর্সের নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে ঋতিকা তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন। তার পাল্টা জবাবে এদিন অনিন্দিতা বলেন, "ডিভোর্সের নোটিশ ওভাবে পাঠানো যায় না। একটা নোটিশ পাঠিয়েছিলেন আইনজীবী, সেটা ডিভোর্স সংক্রান্ত নয়। কোর্ট থেকে কোনও নোটিশ আসেনি। আসলেও ডিভোর্স হয়ে যায় না তাতে।"

ঋতিকার বয়স সম্পর্কে হিরণের প্রথম স্ত্রী ভুল তথ্য দিচ্ছেন বলেই জানিয়েছেন অভিনেতার দ্বিতীয় স্ত্রী। সেই বিষয়ে অনিন্দিতার জবাব, "আমি তো ওর দিদি, মা কেউ না। আমায় তো হিরণ বলেছে, বাচ্চা মেয়ে, এত বয়স, আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে, বোঝ তো...। এই কথাগুলো আমায় হিরণ বলেছে। ঋতিকা গিরি আমার আত্মীয় নয়। আমি ওর আসল বয়স কীভাবে জানব। ওর বয়সের তাহলে প্রমাণ দিক। আমি তো সব প্রমাণ নিয়ে থানায় এসেছি। এত সাহস তো ওইটুকু মেয়ে, প্রমাণ করতে বলুন। ও বিয়ের সম্পর্কে বোঝে কী? আমি ২৫ বছর কাটিয়ে এসেছি। ভাবছে মাথায় সিঁদুর পরে, একসঙ্গে থেকে, ভিয়েতনাম ঘুরেই বউ হওয়া যায়।"

নিয়াশা জানান, ঋতিকা তাঁকে মেসেজ করে জানিয়েছেন যে তিনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী নাকি ঘনঘন আত্মহত্যা করার হুমকি দেন, দাবি অনিন্দিতা এবং তাঁর মেয়ের। অনিন্দিতা এদিন আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি তাঁর এবং হিরণের ডিভোর্স হয়ে গিয়েই থাকে তাহলে অভিনেতা কেন তাঁর এবং অনিন্দিতার নামে এই ফ্ল্যাট কিনেছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X