মঙ্গলবার
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বোরকাপড়া নারীদের ভোটকেন্দ্রে মুখ দেখাতে হবে: ইসি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদানের সময় নারী ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ভুয়া ভোট প্রতিরোধে এ বিষয়ে কোনো শিথিলতা দেখানো হবে না। তবে পর্দানশিন নারীদের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারী পোলিং অফিসার ও নারী আনসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো নারী ভোটারকে পুরুষ কর্মকর্তার সামনে নেকাব বা বোরকা খুলতে বাধ্য করা যাবে না।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছবিসহ ভোটার তালিকা থাকবে এবং ভোট দেওয়ার আগে তালিকাভুক্ত ছবির সঙ্গে ভোটারের চেহারা মিলিয়ে দেখা নির্বাচন পরিচালনা বিধির বাধ্যতামূলক অংশ। পরিচয় নিশ্চিত না হলে ব্যালট পেপার দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, পর্দানশিন নারী ভোটার যদি পুরুষ কর্মকর্তার সামনে মুখ দেখাতে অনিচ্ছুক হন, তাহলে নারী পোলিং অফিসারের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হবে। এতে তাদের পর্দা ভঙ্গ হবে না। তবে কোনো কেন্দ্রে নারী কর্মকর্তা না থাকলে এবং কোনো নারী ভোটার মুখ দেখাতে না চাইলে তাকে ভোট দিতে বাধ্য করা যাবে না এবং ভোট না দেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

ইসি সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ছবিসহ ভোটার তালিকার সঙ্গে ভোটারের চেহারা মিলিয়েই ব্যালট পেপার প্রদান করা হবে। যেহেতু এবারের নির্বাচনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে, তাই ইভিএমের মতো আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে না।

আইন বিশেষজ্ঞ ও ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজনে মুখ দেখানো আইন ও ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ। তবে যেখানে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নারী কর্মকর্তার মাধ্যমে যাচাই সম্ভব, সেখানে নারীর পর্দা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।

ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, নারী কর্মকর্তা না থাকলে এবং কোনো নারী ভোটার মুখ দেখাতে অনিচ্ছুক হলে তার জন্য ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক নয় এবং এতে কোনো গুনাহ বা আইনি অপরাধ হয় না।

আইনজীবীরা আরও জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২–এ সরাসরি ‘পর্দা’ শব্দটি উল্লেখ না থাকলেও ভোটগ্রহণের সময় নারী ভোটারের সম্মান, মর্যাদা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে। এমন কোনো আচরণ আইনসম্মত নয়। এ কারণেই নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরে নারী ভোটারদের জন্য নারী পোলিং অফিসার ও নারী আনসার নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে আসছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X