রবিবার
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪৭ আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াত জোটে অচলাবস্থা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫১ এএম আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও এখনও প্রায় ৪৭ আসনের বণ্টন নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোট।

চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তাদের জন্য নির্ধারিত আসনগুলো কোন দল কতটি পাবে- তা নিয়েই মূলত জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টির বাড়তি আসন দাবিতে জোটের ভেতরে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

নির্বাচনী তপশিল অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই সময়ের মধ্যেই জোটগুলোকে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হবে। কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে সংশ্লিষ্ট আসনে ব্যালটে একাধিক প্রার্থীর নাম থাকবে।

জোটে সম্প্রতি যুক্ত হওয়া একটি দলের শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, আসন বণ্টন নিয়ে জোটের ভেতরে ‘হচপচ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত নেতৃত্ব বিষয়টি নিজেরা সামলাতে চাইলেও এখনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি, আবার অন্য শরিকদের হাতেও দায়িত্ব দিচ্ছে না।

এতে নির্বাচনী মাঠে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা বরাবরের মতোই বলছেন, জোটে কোনো সংকট নেই এবং দু-এক দিনের মধ্যেই সব আসনের বণ্টন চূড়ান্ত হবে। ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলে জোটের সব দল একযোগে প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নামবে বলে তাদের দাবি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিপরীতে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, নেজামে ইসলাম পার্টি, বিডিপি, জাগপা ও খেলাফত আন্দোলনসহ ১১ দল নিয়ে একটি নির্বাচনী ঐক্য গড়ে ওঠে।

তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতানৈক্যের জেরে গত শুক্রবার ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর আগের দিন জামায়াত ও এনসিপিসহ ১০ দল ২৫০ আসনে সমঝোতার ঘোষণা দেয় এবং তিনটি আসন উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০টি আসন বরাদ্দ ছিল, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল উন্মুক্ত।

রংপুর বিভাগে ৩৩টি আসনের মধ্যে জামায়াত ২৬টি নিজের জন্য রেখে চারটি এনসিপি ও তিনটি ইসলামী আন্দোলনকে দিয়েছিল। ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়ার পর সেই তিন আসনেও জামায়াত দলীয় প্রার্থী দিতে চাইছে।

রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনের মধ্যে এনসিপিকে নাটোর-৩ ও সিরাজগঞ্জ-৬, ইসলামী আন্দোলনকে নওগাঁ-৩ এবং বাংলাদেশ খেলাফতকে সিরাজগঞ্জ-৩ আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন জামায়াত নওগাঁ-৩ আসনেও প্রার্থী দিতে আগ্রহী।

খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের মধ্যে ৪টি ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা হয়েছিল। দলটি সরে যাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনটি এখন এনসিপি ও এবি পার্টি উভয়েই দাবি করছে। তবে জামায়াত এই বিভাগে সব আসনে এককভাবে নির্বাচন করতে চায়।

জামায়াত রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখে। এই তিন বিভাগের ১০৮ আসনের মধ্যে আগে ১৫টি শরিকদের দেওয়া হলেও এখন ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা ৮টি আসনেও দলীয় প্রার্থী দিতে চায় জামায়াত।

জোট সূত্র জানায়, এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এসব দাবিতে অনড় রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত কুড়িগ্রাম-৩ আসন চাইছে, যেখানে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এনসিপি চাইছে গোপালগঞ্জ-৩ আসন, আর বাংলাদেশ খেলাফত নজর দিচ্ছে সুনামগঞ্জ-১ আসনের দিকে।

এদিকে ৩০ আসন পাওয়া এনসিপি ও ২০ আসন পাওয়া বাংলাদেশ খেলাফতও নতুন করে আরও কিছু আসনের দাবি তুলেছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা আসনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে লিয়াজোঁ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বরিশাল অঞ্চলেও জটিলতা

বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে ছয়টি জামায়াত নিজের জন্য রেখে বাকি ১১টি ইসলামী আন্দোলনকে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া দুটি আসন এবি পার্টি এবং এনসিপি ও এলডিপিকে একটি করে দেওয়া হয়। ইসলামী আন্দোলন বরিশাল অঞ্চলে শক্ত অবস্থানে থাকায় তাদের সরে যাওয়ার পর কয়েকটি আসন নতুন করে বণ্টনের আলোচনা চলছে। এর মধ্যে বরগুনা-১, পটুয়াখালী-৪ ও বরিশাল-২ আসনের নাম উঠে এসেছে।

এনসিপি ঝালকাঠি-১ আসন দাবি করছে। আগের সমঝোতায় আসনটি জামায়াতের জন্য থাকলেও এখন ইসলামী আন্দোলনের ছেড়ে দেওয়া ঝালকাঠি-২ আসন এনসিপিকে দিয়ে ঝালকাঠি-১ এ জামায়াত প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

সব মিলিয়ে সময় যত গড়াচ্ছে, জামায়াত জোটের ভেতরে আসন বণ্টন নিয়ে চাপ ততই বাড়ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে নির্বাচনী মাঠে জোটের ঐক্য কতটা কার্যকর থাকবে—সেই প্রশ্নই সামনে আসছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X