রবিবার
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির ‘ত্যাগী কর্মী’ দাবি করায় হট্টগোল: পিটিয়ে হত্যা, মিষ্টি বিতরণ

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
মিজানুর রহমান রনির মরদেহ
expand
মিজানুর রহমান রনির মরদেহ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় নির্বাচনী বৈঠকে ত্যাগী কর্মী বলায় হট্টগোল বাধা পর ফেরার পথে মিজানুর রহমান রনি ওরফে কানা মিজান (৩৫) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার সংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। সেখানে উপস্থিত হয়ে মিজান নিজেকে দলের ‘ত্যাগী কর্মী’ হিসেবে দাবি করেন।

এ নিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার তীব্র বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল বাধে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত লোকজন তাকে ধাওয়া দিলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

বৈঠকস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর কালিরহাট বাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে গতিরোধ করে। সেখানে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে তার মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই মিজানের মৃত্যু হয়।

পরে তার মরদেহ সড়কে ফেলে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার পর মিজানকে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে একদল যুবক বাজারে মিষ্টি বিতরণ করে। এটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মরদেহের পাশ থেকে একটি রক্তমাখা লাঠি ও লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি টিপ ছুরি পাওয়া গেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, ‘মিজানকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে মুখ থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে। দেশে আইন আছে, এভাবে কাউকে মেরে ফেলা যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, ‘আমরা আমাদের অফিসে বসে নির্বাচনী কথাবার্তা বলছিলাম। সেখানে মিজান এলে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেখান থেকে সে চলে যায়। পরে শুনি কে বা কাহারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার ফেলে যায়। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।’

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, ‘গণপিটুনিতে মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X