সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা ৮ ঘণ্টা দায়িত্ব, তবুও সম্মানি মেলেনি ইবির বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যদের

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
ইবির বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যরা
expand
ইবির বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় নবীন বরণ অনুষ্ঠানে টানা আট ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেও সম্মানি পায়নি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও রোভার স্কাউটের সদস্যরা।

শনিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে তারা দায়িত্ব পালন করেন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, ভর্তি পরীক্ষা, সমাবর্তনসহ বিশেষ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যদের সম্মানি প্রদান করা হয়। তবে এবারের কেন্দ্রীয় নবীন বরণ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করলেও তারা কোনো সম্মানি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সদস্যরা।

ইবি রোভার স্কাউট গ্রুপ ইউনিট কাউন্সিল সভাপতি খন্দকার আবু সাঈম বলেন, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে আমাদের সদস্যরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত বছরগুলোতে সকল ডিউটি পালনকারীদের জন্য যে সম্মানী ছিল, এ অনুষ্ঠানে তা প্রদান করা হয়নি। পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থাপনা নিয়েও অনেক সদস্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিএনসিসি নৌ শাখার ক্যাডেট আন্ডার অফিসার (সিইউও) মুহিব্বুল্লাহ নোমান বলেন, সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নবীনবরণ প্রোগ্রামের শৃঙ্খলার গুরুদায়িত্বে ছিল বিএনসিসি। ৮ ঘন্টার বেশি সময় ডিউটি করেও দিনশেষে সম্মানীটুকু পাইনি আমরা। বিএনসিসির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন দৌরাত্ম্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক। আর যে সম্মানীটুকু দেওয়া হয়, সেটা খুবই সীমিত। দুঃখজনক হলেও সত্য, একজন দিনমজুরের পারিশ্রমিকও এরচেয়ে ঢের বেশি হয়। আমরা চাই, বিএনসিসির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন উদাসীনতা না থাকুক।

সেনা শাখার ক্যাডেট আন্ডার অফিসার (সিইউও) মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনায় আমরা সকাল থেকে অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টারও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছি। অতিথিদের প্রটোকল, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দায়িত্ব শেষে আমাদের কোনো সম্মানী প্রদান করা হয়নি। অথচ দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের দায়িত্ব পালনের জন্য বিএনসিসি ক্যাডেটদের মোটা অংকের সম্মানী দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে থেকেই যে সামান্য সম্মানী দেওয়া হতো, এবার সেটুকুও দেওয়া হয়নি। প্রশাসন জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল অঙ্কের ব্যয় করতে পারলেও ক্যাডেটদের ন্যায্য প্রাপ্যের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবার যুক্তি দেখানো দুঃখজনক। স্বেচ্ছাসেবার একটা নির্দিষ্ট সংজ্ঞা থাকা উচিৎ। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

এ বিষয়ে ইবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইতোপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোভারদের ২০০ টাকা করে সম্মানি দিলেও এবছর ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের ডিউটিতে কারো জন্যই আর্থিক কোনো সম্মানীর ব্যবস্থা নেই, শুধু খাবারের ব্যবস্থা ছিল।

বিএনসিসির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. আব্দুল বারী বলেন, এর আগেও অনেক প্রোগ্রামে সম্মানী দেওয়া হয়েছে, আবার অনেক প্রোগ্রামে দেওয়া হয়নি। সব প্রোগ্রামেই যে সম্মানী দেওয়া হয়, বিষয়টি এমন নয়। এই প্রোগ্রামের বিষয়ে বর্তমান প্রশাসন জানিয়েছে যে, অর্থনৈতিক ক্রাইসিস থাকায় বিএনসিসি ও রোভার সদস্যদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে না। তারা ইউনিভার্সিটিকে ভলান্টারি সার্ভিস দিচ্ছে, দেশসেবায় নিয়োজিত এবং তারা স্টুডেন্ট। তাই তাদের জন্য দুপুরের লাঞ্চের ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ে নবীন বরন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আলীনূর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কিংবা সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া সার্বিক বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গতকালের নবীন বরণে শিক্ষামন্ত্রী আসার কথা থাকলেও তিনি সরাসরি না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নবীন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবীনদের দেওয়া খাবার নিম্নমানের (টক হয়ে যাওয়া ও নষ্ট চাল-ডাল) হওয়ায় বেশিরভাগ খাবারই খেতে না পেরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা। প্রথম দিনেই নবীনরা এমন অভিজ্ঞতার শিকার হওয়ার গতকাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা চলছে। সর্বশেষ বিএনসিসি-রোভার স্কাউট সদস্যদের ডিউটির সম্মানী না দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ে শিক্ষার্থীদের সমালোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন