

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজনীতি নিষিদ্ধ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্লোগানসম্বলিত পোস্টার ও দেয়াললিখন দেখা গেছে।
শুক্রবার (০৮ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়ক, মুন্সী মেহেরুল্লাহ হল ও শহীদ মশিউর রহমান হলের দেয়ালে এসব লিখন দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। পরে বিষয়টি দ্রুতই ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি করে।
দেয়াললিখন ও পোস্টারগুলোতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসছে, বাংলাদেশ কাঁপছে’, ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে ক্যাম্পাস ছাড়’, ‘যৌন হয়রানির বিচার চাই’ এবং ‘শিবিরের হাত থেকে যবিপ্রবি বাঁচাও’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেখা যায়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী শিহাব উদ্দিন সরকার বলেন, প্রশাসনের দুর্বলতা ও নীরব ভূমিকার সুযোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ দেয়াললিখন ও পোস্টারিং করেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম ক্যাম্পাসে স্থান না পায়।
পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী রাফি বলেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই ছাত্রলীগ এমন সাহস পাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও বিতাড়িত সংগঠনের সদস্যরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে যবিপ্রবির প্রক্টর হামিদুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। এ ঘটনায় হল প্রভোস্টদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং তারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে হলগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে। কোনো ধরনের আলামত পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
মুন্সী মেহেরুল্লাহ হলের প্রভোস্ট ড. মো. আব্দুর রউফ সরকার বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই সহকারী হল প্রভোস্টদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আগামীকাল জরুরি সভার আয়োজন করা হয়েছে। কারা দেয়ালে এ ধরনের লিখন করেছে, তাদের শনাক্তে কাজ চলছে। বর্তমানে পঞ্চম তলা পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা না থাকায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই পুরো হল সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শহীদ মশিউর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামান বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এর সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখতে খুব দ্রুতই হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন স্বাক্ষরিত এক গেজেটে সরকার ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’-এর ধারা ১৮-এর উপধারা (১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে আইনটির তফসিল-২-এ ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’-কে নিষিদ্ধ সত্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।