

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পুরান সব দুঃখ-গ্লানি পেছনে ফেলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। বাঙালির অন্যতম প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি চারুকলা, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব এবং বাংলা বিভাগের সম্মিলিত উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি।
আয়োজকদের মতে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্যের বার্তা তুলে ধরাই এবারের আয়োজনে মূল লক্ষ্য। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘নববর্ষের ঐক্যতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’, যা সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন ঘটাবে। চারুকলায় সৃজনশীলতার ব্যস্ততা।
ক্যাম্পাসে ঘুরে দেখা গেছে, চারুকলা বিভাগে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। শিক্ষার্থীরা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করছেন নানা প্রাণীর কাঠামো এবং বৈশাখী মোটিফ। কেউ জলরঙে আঁকছেন নান্দনিক ছবি, আবার কেউ মাটির সরায় দিচ্ছেন সূক্ষ্ম নকশা। কাগজ কেটে তৈরি হচ্ছে ফুল, প্যাঁচা, পাখির মুখোশসহ বৈচিত্র্যময় শিল্পকর্ম—যা তাদের সৃজনশীলতার উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।
এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে শিক্ষার্থীদের নির্মিত বিশাল আকারের ষাঁড়, ঘোড়া ও পাখির প্রতিকৃতি।
যদিও চারুকলায় মুখোশ তৈরি হচ্ছে, তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ পরিধান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে রং ছিটানোতেও আরোপ করা হয়েছে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, শোভাযাত্রায় ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডের পাশাপাশি কুলা, ডালার মাধ্যমে প্রতিবাদী বার্তা তুলে ধরা যাবে। তবে কোনো অবস্থাতেই মুখোশ ব্যবহার করা যাবে না। কেউ রং ছিটালে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া রাত ১০টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজন
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে উপাচার্যের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে দিনের সূচনা হবে। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুরোনো কলাভবনের মৃৎমঞ্চে শুরু হবে বর্ষবরণ। এরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে চারুকলার তত্ত্বাবধানে বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা, যা গিয়ে শেষ হবে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে।
এছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে বাংলা বিভাগ মহুয়া মঞ্চে আয়োজন করেছে বৈশাখী ফলাহার, লোকক্রীড়া ও শিক্ষকদের পরিবেশনা। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ ১৩ ও ১৪ এপ্রিল পুতুলনাট্য, পদাবলী কীর্তন, জারিগানসহ বিভিন্ন লোকজ পরিবেশনার ব্যবস্থা করেছে। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ১৩ এপ্রিল ভেলাবাইচ ও কলাগাছে ওঠার আয়োজন করেছে। ১৪ এপ্রিল দুপুরে থাকবে হালখাতা ও মিষ্টিমুখের আয়োজন।
মন্তব্য করুন