

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় B-STRONG প্রকল্পের মাধ্যমে নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের পেটকাটা খাল পুনঃখনন এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) সংলগ্ন এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক জনাব মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জনাব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, সারাদেশব্যাপী খালখনন কর্মসূচী শুরু হচ্ছে আজ থেকে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুর থেকে খালকাটা কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজকে সারাদেশে বিভিন্ন জেলায় খালখনন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দিনের সূর্য দেখলেই বোঝা যায় দিনটি কেমন যাবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করা শুরু করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন বিএনপি শুধু প্ল্যান দেয়না সেটা দ্রুত কার্যকর করে। জনগণের কল্যাণে নিবেদিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। খাল কাটা কর্মসূচি সেচ, মৎস্য চাষ এবং পানির স্তর ধরে রাখার সুযোগ করে দেবে। নোয়াখালীতে যে জলাবদ্ধতা রয়েছে, এর মাধ্যমে তার নিরসন ঘটবে।
এসময় তিনি নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আপনারা যদি একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন, তার মাধ্যমে এ জলাবদ্ধতা সমস্যা আমরা দূর করতে পারবো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান বলেন, খাল-বিল-নদী-নালা কাটা শুধুমাত্র একটি কর্মসূচী নয়, এটি একটি আন্দোলন ছিলো। সেই আন্দোলনকে পুনরায় শুরু করার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুসন্তান বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমাদের এ আন্দোলন শুধুমাত্র পেটকাটা খাল খনন উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেনা। আমরা আরো যে সমস্ত খাল, নালা দখল হয়েছে বা ভরাট হয়ে গেছে আমরা এগুলোকে আবার দখলমুক্ত করবো এবং ভরাট হয়ে থাকলে পুন:খনন করে নোয়াখালীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণের চেষ্টা করবো।
আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, B-STRONG প্রকল্পের আওতায় যে পেটকাটা খাল এটার অনেকটা সুফলভোগী হব। আমরা যে লবণাক্ততা সমস্যা অনুভব করছি আমি বিশ্বাস করি এর মধ্য দিয়ে আমরা এ সমস্যার কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারবো। ১৯৭৭-১৯৮১ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে খালকাটা কর্মসূচিতে প্রায় পনেরো শত খাল খনন করা হয়েছিলো। আমাদের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে অনেকগুলো জেলায় আজকে যে খাল কাটা কর্মসূচী শুরু করেছেন আমি বিশ্বাস করি এটাও সাফল্য লাভ করবে এবং সেই সাফল্য লাভের জন্য আমাদের সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই নোবিপ্রবি বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট আছে। এর মধ্য দিয়ে আমরা পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদী-নালা-খালের তথ্য ভিত্তিক গবেষণা এবং পরিবেশ বিষয়ে গবেষণা করে আমাদের দিক থেকে যতটুকু দরকার আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। একই সঙ্গে আমরা আন্তরিকভাবে চাইবো এই খাল কাটা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে নোয়াখালী অঞ্চলের কৃষি সমৃদ্ধ হবে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে আমরা রক্ষা পাবো, নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণের চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবিলা করতে পারবো।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা বিএনপি আহবায়ক কমিটির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ আজাদ, বিএনপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, নোবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন, বিএডিসি নোয়াখালী রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী (সেচ) হুসাইন মুহাম্মদ খালিদুজ্জামান, বিএডিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. ফয়সল আহমদ,
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় খাল খননের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। প্রথম পর্যায়ে ৫৪ জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হবে। আগামী ছয় মাসে ১২০০ কিলোমিটার ও পর্যায়ক্রমে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাভূক্ত বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর আয়োজনে উক্ত কর্মসূচিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, নোবিপ্রবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিএডিসির কর্মকতা, কর্মচারী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন