

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এর জের ধরে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমানের পদ ২ মাসের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে আতিকুর রহমান বলেন তিনি সদস্য সচিব ও আহবায়কের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা সম্পন্ন) মো জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত একটি স্থগিতাদেশ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, গতকাল ১৯ ফেব্রুয়ারী হল দখলকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক ও সদস্য সচিবের উপস্থিতিতে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। এত ছাত্রদলের এক গ্রুপের তিনজন সদস্য আহত হয়েছে এবং অপর গ্রুপের নেতা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানের সাথে রাজনীতি করা অন্যান্য কর্মীদের মেসে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এর দরুন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ কর্তৃক আতিকুর রহমানকে মারধরের অভিযোগে দুই মাসের জন্য তার পদ স্থগিত করেছে। তবে এই ঘটনা অস্বীকার করেছে আতিকুর রহমান।
পদ স্থগিত হওয়া শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আতিকুর রহমান বলেন, আমার একটি ছোটভাই সে ছাত্রদলের রাজনীতি করে। সে ১০৪ নম্বর রুমে থাকতো। তাকে দুতলায় সিট দেয়া হলে সেটা নিয়ে ঝামেলা বাধায় তারা। আবির ছেলেটা — যে নেশা করে, শুনেছি ইয়াবাও খায় এবং ছাত্রলীগ করতো, এখন ছাত্রদল করে — সে বলে তার পারমিশন ছাড়া কেউ হলে উঠতে পারবে না। নিবিড় যে কিনা ছাত্রলীগের কর্মী ছিলো তবে এখন ছাত্রদল করে সে আমাকে বলে তার অনুমতি ছাড়া হলে কেউ থাকতে পারবে না। তারা কি প্রশাসন ?
তিনি আরও বলেন, আমি ১২ বছর ধরে ছাত্রদলের রাজনীতি করি। এই সুবাধে বিগত শাসনামলে একদিনের জন্যও হলে থাকতে পারিনি৷ তখন আবির আমাকে বলে তার রুমে এসে থাকার জন্য, তবে আমি আমার এক ছোট ভাই সাজ্জাদের রুমে গেস্ট হিসেবে থাকি। আমাদের দলীয় নীতি ছিলো ছাত্রদলের কেউ যদি হলে উঠতে চায় তাহলে সবাই তাকে হেল্প করবে। কিন্তু তারা হেল্প না করে বাধা দিয়েছিলো৷ আমি এটা সদস্য সচিব ও আহবায়ককে জানাই। তারা হলে গিয়ে কথাবার্তা বলে আমাকে কল দিয়ে হল ডাকে৷ তারা যেহেতু আগেই গিয়েছিলো তাই সেখানে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এবং আমার বিরুদ্ধে অন্যদেরকে প্রস্তুত করে। আমার সাথে বেয়াদবি করেছিলো নিবিড় তখন তাকে আমি একটা থাপ্পড় মারি। সেসময় আহবায়ক আমাকে চলে যেতে বলে। আমি চলে আসি। পরে আমার সাথে রাজনীতি করা ছোট ভাইদের মেসে গিয়ে হলের ছেলেরা ভাঙচুর করেছে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত। কেন্দ্রীয় সংসদ ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে।”
অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, “দলের সিদ্ধান্ত ডেকোরাম অনুযায়ী হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন। ভুক্তভোগীরা ক্ষুব্ধ হতে পারেন, তবে সেটি দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। সংগঠন থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটিই আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে সংগঠনের কাজকর্ম পরিচালনায় এটি একটি শিক্ষণীয় বিষয়। কেউ যদি সীমা লঙ্ঘন করে, তাহলে আরও বড় ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তার অভিযোগ ভিত্তিহীন। সেন্ট্রাল কমিটির কাছে কেউ ঊর্ধ্বে নয়। সেন্ট্রাল থেকে তার পদ স্থগিত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
