

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, "গণভোটে হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী; হ্যাঁ তে সীল দিন নিরাপদ বাংলাদেশ বুঝে নিন" জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণভোটই সবচেয়ে কার্যকর ও গণতান্ত্রিক মাধ্যম।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ডাকসু প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের স্বনামধন্য পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের প্রতিনিধিদের সমর্থন ও অংশগ্রহণে "ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী সংসদ"- এর ব্যানারে সারা বাংলাদেশ ব্যাপী ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গণভোটে "হ্যাঁ" এর পক্ষে গণজমায়েত ও গণ সমর্থনে আহ্বানের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, "গণভোটে হ্যাঁকে বিজয়ী করার মাধ্যমে জুলাইয়ের অসমাপ্ত বিপ্লবে ছাত্রজনতার রক্তাক্ত সংগ্রামকে একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিপ্লবে রূপ দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ; আমরা বিশ্বাস করি হ্যাঁ মানে কেবল একটি ভোট নয় হ্যা মানে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন সমাজ এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান।"
সাদিক বলেন, "বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ বরাবরই দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্বশীল ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে তারই ধারাবাহিকতায় দেশের স্বনামধন্য পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) সম্মিলিতভাবে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদের ব্যানারে বাংলাদেশের বিভাগীয় শহর সমূহে গণভোটে হ্যা এর পক্ষে গণজমায়েত কর্মসূচির ঘোষণা দিচ্ছে।
একই সাথে সংবাদ সম্মেলন থেকে গণভোটে "হ্যাঁ" কে বিজয়ী করতে কৃষক, শ্রমিক, মজুর, মুটে, রিকশাচালকসহ সর্বস্তরের পেশাজীবী সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন,"এক বুক ভরা আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলো। তারা চেয়েছিলো বাংলাদেশের সামাজিক, সংস্কৃতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে যেভাবে অনিয়ম, বিশৃংখলা ও স্বেচ্ছাচারী রাজনীতির চর্চা শুরু হয়েছিলো তার অবসান করবে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হবে। একজন নাগরিক হিসেবে দেশের সর্বক্ষেত্রে তার ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে, বিদেশের আধিপত্যবাদী শক্তির করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাবে।"
"গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা সমূহ এসেছে যেগুলো বিগত ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে ভেঙে দেয় এবং ইনসাফ ও ন্যায্যতার তে নতুন রাষ্ট্র কাঠামো গঠনকে সমর্থন করে, আমরা দেখেছি কিছু কিছু রাজনৈতিক দল এই সংস্কার প্রস্তাবনা গুলোতে "নোট অফ ডিসেন্ট" দিয়েছে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মতানৈক্য দেখা গিয়েছে। তাই আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে "হ্যাঁ" কে বিজয়ী করার মাধ্যমে বিগত বা পুরোনো ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিলোপ সাধন করে পরবর্তীতে কেউ জানাও ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী আচরণ করতে না পারে বা হয়ে উঠতে পারে তার সুষ্ঠু সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।"
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) জিএস সাঈদ বিন হাবিব, জাকসু এজিএস ফেরদৌস আল হাসান, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, রাকসুর জিএস সালমান বিন সাব্বির,ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ ও এজিএস মহিউদ্দিন খানসহ আরো অন্যান্য।
মন্তব্য করুন
