

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের জন্য দূরত্ব ও যাতায়াতের বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রোববার (৩০ আগস্ট) রংপুরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ের অবস্থান, যাতায়াতের দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা ও দুর্গমতার মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে ভাতার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। দেশের বিভিন্ন জেলার দুর্গম চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোকে এ উদ্যোগের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি অঞ্চলভেদে বিদ্যমান বৈষম্য কমাতে সরকার বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নিচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা স্পষ্ট করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের সব কার্যক্রমের চূড়ান্ত গন্তব্য বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষ। তাই প্রশাসনিক সংস্কারের সুফল সরাসরি শিশুদের শেখার পরিবেশে দৃশ্যমান হতে হবে।
আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ‘সায়েন্স টয়’ কার্যক্রম চালু করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। খেলাধুলা ও হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে শিশুদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
পাশাপাশি নতুন কারিকুলামে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে আটটি ক্রীড়া কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষক উপস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না।
দুর্গম ভাতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কোন এলাকাগুলো প্রকৃত অর্থে দুর্গম হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সেখানে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তারা কী ধরনের সুবিধা পাবেন, তা নতুনভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় দুর্গম এলাকা চিহ্নিত করা হবে।
এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের মতামত ও সুপারিশ লিখিতভাবে সংকলন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এর ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কর্মশালায় রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


