

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর যোগদান আগামী ১ অক্টোবর। নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর ৪ অক্টোবর তাদের পদায়ন করা হবে।
এরপর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দুই মাসের বিশেষ পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রশিক্ষণ শুরুর তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রশিক্ষণের ধরন ও অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, প্রশিক্ষণ চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়নের পরই নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরুর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রশিক্ষণ শুরুর তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মেয়াদ দুই মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষ করেই ক্লাস নিতে পারবেন নতুন যোগদান করতে যাওয়া শিক্ষকরা।
সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে আগামী ১ অক্টোবর যোগদান করতে হবে। এরপর ৪ অক্টোবর তাদের পদায়ন করা হবে। তবে ট্রেনিংয়ের টাইম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
পদায়নের দিন থেকেই প্রশিক্ষণ শুরু করা যায় কি না- এটা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান অধিদপ্তর মহাপরিচালক। প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হতে না পারলে নিয়োগ বাতিল হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, ‘আমাকে এখন পর্যন্ত পদায়নের পর প্রশিক্ষণে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। সেই প্রশিক্ষণের পর তাদের নিয়ে কী করতে হবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসেনি।’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে আগামী ১ অক্টোবর যোগদান করতে হবে। এরপর ৪ অক্টোবর তাদের পদায়ন করা হবে। তবে ট্রেনিংয়ের টাইম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণটি নিয়মিত প্রশিক্ষণের চেয়ে আলাদা হবে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা একটা স্পেশাল ট্রেনিং। এটা আমাদের রেগুলার ট্রেনিং না। কারণ রেগুলার ট্রেনিং ১০ মাসের বেশি। এটা যেহেতু নতুন শিক্ষকদের জন্য হবে, তাই দুই মাসের বিশেষ ট্রেনিং।’
প্রশিক্ষণের তারিখ এখনো নির্ধারিত না হলেও ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। প্রশিক্ষণ অক্টোবর মাসে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ফরিদ আহ্মদ। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ প্রশিক্ষণের শুরু অক্টোবর মাসে হতে পারে। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’
একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো অবকাঠামো রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে ডাবল শিফটে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।’ তবে প্রশিক্ষণটি আবাসিক নাকি অনাবাসিক হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান নেপ মহাপরিচালক।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে। নীতিমালাটি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহ্মদ বলেন, ‘নীতিমালা কমপ্লিট। শিগগিরই এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দিতে পারব আশা করি, ইনশাআল্লাহ।’
নীতিমালাটি মন্ত্রণালয় একবার পর্যালোচনা করেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রণালয় একবার দেখেও দিয়েছে। আবার মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। কবে নাগাদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব, সেটা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হতে না পারলে শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিলের বিষয়টি নীতিমালায় রাখা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নেপ মহাপরিচালক বলেন, ‘প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ না হতে পারলে নিয়োগ বাতিল হবে বলে মনে হয় না। তবে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত নীতিমালায় আছে কি না, তা বলা সম্ভব হচ্ছে না।’
সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়নের পর প্রশিক্ষণের সময়কাল, ধরন, পদ্ধতি এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী বিষয়গুলো নীতিমালায় স্পষ্ট করা হবে। নীতিমালাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর অনুমোদন পাওয়ার পরই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


