

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভূমিধস বিজয়ের পর প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
পরিবর্তনের এই ছোয়া লেগেছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও। গত ১৬ মার্চ উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদে রদবদল এসেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নিয়োগ দেয়া উপাচার্যদের সরিয়ে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের পদায়ন করা হয়েছে।
তবে এর ব্যতিক্রম ঘটনা লক্ষ করা গেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও ছাত্রদল নেতাদের নানা অভিযোগ থাকলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক কামরুল আহসানই আপাতত উপাচার্য হিসাবে টিকে থাকছেন বলে নিশ্চিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ সূত্র।
জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলকে কোন সুবিধা না দেওয়া ও ছাত্র শিবিরকে ক্যাম্পাসে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার কারনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের একাংশের ও ছাত্রদল নেতাদের চক্ষুশূলে পরিনত হয়েছিলেন বর্তমান উপাচার্য। সরকার গঠনের শুরু তার পরিবর্তনের গুঞ্জন ও উঠেছিল জোরেশোরে।
তবে বিগত আওয়ামী লীগের আমলে বলিষ্ঠ ভূমিকা বিবেচনায় ও শিক্ষামন্ত্রীর সাথে একাধিক বার বৈঠকের পর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার।
কামরুল আহসান আওয়ামী লীগ শাসনামলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ছিলেন।
তবে উপাচার্য পদে বহাল তবিয়তে থাকলেও বাকী শীর্ষ তিনপদ উপ উপাচার্য (শিক্ষা), উপ উপাচার্য (প্রশাসন) ও কোষাধ্যক্ষ পদে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) পদে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান জামায়াতপন্থী, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক সোহেল আহমেদ আওয়ামীপন্থী ও কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক আবদুর রব বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসাবে পরিচিত।
তারা চার বছরের জন্য নিয়োগ লাভ করলেও সরকারের ইচ্ছাতে পরিবর্তন আসবে ঈদের পরে এমনটাই জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী কয়েকজন শিক্ষক। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে ঈদের পরে এই তিনটি পদে রদবদলের সম্ভবনা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপিপন্থী শিক্ষক বলেন, আমরা দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিলাম শুধুমাত্র মতাদর্শের কারণে। এখন যেহেতু আমাদের দল ক্ষমতায় এসেছে। আমরা চাই যারা বঞ্চিত ছিল বওগত সরকারের আমলে তাদেরকে সরকার মূল্যায়ন করুক।
সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের পরেই শীর্ষ তিনপদে নতুন মুখ দেখা যাবে বলে আশা করছেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকেরা।
মন্তব্য করুন