

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামি ও তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর প্রফেসর একেএম গোলাম রব্বানীকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে প্রফেসর গোলাম রব্বানী সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে বিষয়টি জানা যায়।
পরবর্তীতে, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ পরিলক্ষিত হয়।
এর আগে, গত ৭ ডিসেম্বর উক্ত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বিশ্বাস মৃত্যুবরণ করলে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়।
প্রফেসর গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত ঢাকা মহানগর মূখ্য হাকিম আদালতের একটি মামলার ৮ নং আসামি তিনি।
এই মামলার প্রধান আসামি পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও এ মামলায় আসামি হিসেবে আরও রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেতু ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পুলিশের সাবেক আইজিপি মো. জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া প্রমুখ।
এছাড়াও, প্রফেসর গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে ২০২২ সালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলা ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।
জানা যায়, ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা প্রফেসর গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন ও বয়কট শুরু করলে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে মাফ চেয়ে বিভাগে আসেন।
কিন্তু এর পরও জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রলীগের এক নেতাকে গোপনে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরী হয়েছে। এ বিষয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘জুলাই গণহত্যার মামলার আসামি ও হাজারো শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ধ্বংসকারী গোলাম রাব্বানীকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরিবর্তে তাদেরকে পুরস্কৃত করতেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি অনতিবিলম্বে এই রাব্বানীসহ ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে উদ্ভুত যেকোনো পরিস্থিতির দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।’
নিয়োগের বিষয়টি জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন
