

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাদক ব্যবসার অভিযোগে বহুল পরিচিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)।
সোমবার (১৬ আগস্ট) দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এর আগে রোববার বিকেলে অভিযান চালিয়ে দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনী এনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের বিষয়টি আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সংশোধিত আইনের অধীনে এটিই প্রথম মামলা বলে জানিয়েছেন তারা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশোধিত ৩৬(ক) ধারায় বলা হয়েছে, সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্সের অবৈধ ক্রয়, বিক্রয়, সরবরাহ, প্রস্তাব, প্রচার বা লেনদেনে জড়িত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) হাসান মারুফ বলেন, সরকার যে কোনো মূল্যে মাদকের বিস্তারে লাগাম টানতে চায়। এ কারণে সম্প্রতি সংশোধিত আইনে সাইবার স্পেসে মাদক কেনাবেচার বিষয়টিও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। দারাজ ছাড়াও সন্দেহজনক বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফরমের ওপর নজরদারি অব্যহত আছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দারাজের ওয়েবসাইটে সিবিডি ওয়েল নামের একটি পণ্য দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য যাচাইয়ের জন্য নারকোটিক্সের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা সম্প্রতি বেশ কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। এক পর্যায়ে দারাজের ডেলিভারি কর্মীদের একজন কয়েকটি সিবিডি ওয়েল সরবরাহ করেন। পরে রাসায়নিক পরিক্ষার জন্য ল্যাবে নমুনা পাঠানো হয়। এতে ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে আসে। দেখা যায়-সিবিডি ওয়েল নামের ওই পণ্যে উচ্চ মাত্রায় গাঁজার তরল উপাদান বা টিএইচসি (ট্রেট্রা হাইড্রো কন্যাবিস) রয়েছে।
নারকোটিক্সের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, দারাজে বিক্রিত পণ্যে মাদক পাওয়ার পর পরই সংশ্লিষ্ট পণ্যের কারখানায় অভিযান চালানো হয়। রোববার বিকালে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকর একটি ফ্ল্যাটে গেলে সেখানে মজুদকৃত বিপুল পরিমান সিবিটি ওয়েল এবং এ সংক্রান্ত নানা ধরনের উপকরণ পাওয়া যায়। এ সময় কারখানার মালিক এবং দারাজের পণ্য সরবরাহকারি আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।


