

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের খুনি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার দীর্ঘ আত্মগোপনের জীবন। একইসঙ্গে বিদেশি সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বহুল আলোচিত বই বাংলাদেশ: অ্যা লিগ্যাসি অব ব্লাড-এ উঠে আসা তার ভূমিকা ও পলাতক জীবনের বিভিন্ন বর্ণনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে দেশে-বিদেশে অবস্থানের নানা তথ্য জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে ডিবি সূত্র জানায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরদিন মোজাফফর ভারতে পালিয়ে যান। প্রথমে বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থানের পর কলকাতায় ভুয়া নাম-পরিচয়ে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। পরে একই পরিচয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে বিভিন্ন দেশ সফর করেন। ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের কারণে দীর্ঘদিন তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল)।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও দাবি করেন, ১৯৯৮ সালে গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলায় বসবাসের পর রাজধানীর একটি ডিওএইচএস এলাকায় স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখায় প্রতিবেশীদের কেউই তার অতীত সম্পর্কে জানতেন না।
এদিকে ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বাংলাদেশ: অ্যা লিগ্যাসি অব ব্লাড বইয়ে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে মোজাফফরের ভূমিকার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
বইটিতে দাবি করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক ঘণ্টা পর মেজর মোজাফফর, মেজর শওকত আলী ও মেজর রেজা সশস্ত্র সেনাসদস্যদের নিয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফিরে যান। সেখানে জিয়াউর রহমানের কক্ষ তল্লাশি করে তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র একটি স্যুটকেসে ভরে নেওয়া হয়। পরে জিয়া ও নিহত দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তার মরদেহ সামরিক যানযোগে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, পরে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও মোজাফফর উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ‘বিপ্লবী পরিষদ’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পর মঞ্জুর ও সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা সেনানিবাস ছেড়ে পালিয়ে যান। পথে সরকারপন্থী সেনাদের সঙ্গে গোলাগুলিতে কয়েকজন নিহত ও গ্রেপ্তার হলেও মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।