বুধবার
২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮ টুকরো করে প্রবাসীকে খুন: মূল অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিকা গ্রেপ্তার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
মূল অভিযুক্ত তাছলিমা আক্তার
expand
মূল অভিযুক্ত তাছলিমা আক্তার

রাজধানীর মুগদার আলোচিত সৌদি প্রবাসী মোকাররম হত্যা মামলার প্রধান আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুগদা থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের যৌথ অভিযানে বুধবার (২০ মে) সকালে নরসিংদীর শিবপুর থানার জয়নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোকাররম মিয়া (৩৮)।

গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে পূর্বের পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি মুগদার মান্ডা ১ম গলিতে প্রেমিকা তাসলিমা ওরফে হাসনার বড় বোন হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন।

এরপর ১৭ মে দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ মান্ডা ১ম গলির ২৬০/১ নম্বর ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে সাতটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথা ও বাম হাতবিহীন খণ্ডিত, অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় মরদেহটি মোকাররমের বলে শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের সূত্রে বিভিন্ন সময়ে মোকাররমের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেন তাসলিমা।

গত ১৪ মে দুপুরে মোকাররম ওই টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমাকে স্বামীকে ছেড়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। এতে দুজনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়।

পুলিশের দাবি, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাসলিমা পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে খাওয়ান।

তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাসলিমা, তার বোন হেলেনা ও ভাগ্নি হালিমা আক্তার মিলে ধারালো বটি ও হাতুড়ি দিয়ে মাথা, ঘাড় ও গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন।

হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বাথরুমে নিয়ে মরদেহের মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে খণ্ডিত অংশগুলো কালো পলিথিনে মুড়িয়ে মানিকনগর বালুর মাঠ ও মান্ডার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর তাসলিমা মোকাররমের লাগেজ ও তার চার বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে আত্মগোপনে চলে যান বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত ১৮ মে র‌্যাব এ মামলার এক নম্বর আসামি হেলেনা বেগম (৪০) ও তার মেয়ে হালিমা আক্তারকে (১৩) গ্রেপ্তার করে।

পরে হেলেনা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকা থেকে মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন