

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সম্প্রতি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বাসার পাশের বাড়ি থেকে ইব্রাহিম নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শিশুটির আশপাশে যাকে শেষবার দেখা যায়, তিনি বাড়িওয়ালার ছেলে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
এ বিষয়ে দুদিন আগে মামলা হয়েছে এবং পুলিশ বলছে, বাড়িওয়ালার ছেলের যুক্ত থাকার বিষয়ে তাদের কাছে এখনো কোনো প্রমাণ নেই।
নিখোঁজ শিশুটির বাবা-মা জানান, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও বাসার সামনে খেলছিল ইব্রাহিম। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ঠিক ৭টা ২১ মিনিটে তাকে হঠাৎ বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে সে একা ছিল না; তার পেছনে পেছনে এক ব্যক্তিকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
ভেতরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইব্রাহিমের একটি চিৎকার শোনা যায়। এর মাত্র কয়েক মিনিট পর ভেতরে প্রবেশ করা সেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে তড়িঘড়ি করে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। কিন্তু ইব্রাহিমের আর কোনো সন্ধান মেলেনি।
জানা গেছে, শিশুটির পরিবার যে বাড়িতে থাকে, তা রামিসাদের ভবন থেকে মাত্র ৩ গলি দূরে। বাড়িটির ছাদে সবাইকে যেতে দেওয়া হয় না। ঘটনার সময় ছাদটি যথারীতি তালাবদ্ধ ছিল। ছাদে যাওয়ার একমাত্র চাবিটিও বাড়ির মালিকের কাছে থাকে। ফলে এত অল্প সময়ের মধ্যে শিশুটি কোথায় উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে বড় ধরনের রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করছেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের কখনো কোনো ধরনের ঝগড়া বা মনোমালিন্য হয়নি। তবে তাদের অভিযোগ, বাড়িওয়ালার দুই ছেলে মাদকাসক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তারা পরিকল্পিতভাবে এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ তাদের।
এ বিষয়ে ইব্রাহিমের বাবা বলে, ‘আমরা এখানে ১০ বছর ধরে আছি। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। বাড়িওয়ালার দুই ছেলে নেশা আর অনলাইন জুয়া খেলেন। আমাদের ধারণা, টাকার জন্যই তারা আমার নিষ্পাপ সন্তানকে আটকে রেখেছেন।’
এ ঘটনার পর পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘নিখোঁজ শিশুটির পরিবার দুদিন আগে মামলা করেছে। আমরা তদন্ত করছি। তবে তারা আমাদের কাছে বাড়িওয়ালার ছেলেদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি।’
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিরপুর জোনের মিরপুর জোনের ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, ‘ভুক্তভোগীর পরিবার আমাদের কাছে বাড়িওয়ালার ছেলের বিষয়ে কিছু জানাননি। এমন প্রমাণও এখন পর্যন্ত নেই। যদি তারা অভিযোগ করেন, আমরা খতিয়ে দেখব।’
