

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে, যার সময়সীমা শেষ হবে রোববার বিকেল ৫টায়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়ে, আপনি ডা. শেখ মহিউদ্দিনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, ২, বড় মগবাজার, ঢাকায় গত ২৭ মে ৬ নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, 1982 এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য ১ জুন কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।
তদন্তকালে কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ডিজি, এডি, শিশু বিভাগের প্রধান, এনআইসিইউতে কর্তব্যরত চিকিৎসক, ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত নার্স, আয়া, রোগী, রোগীর অ্যাটেনডেন্ট এবং মৃত নবজাতকদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য গ্রহণ করেন। কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত হাসপাতাল পরিচালনার ক্ষেত্রে অধ্যাদেশের বিধান যথাযথভাবে পালিত না হওয়ায় ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় নিরূপণ করেছেন। আপনার হাসপাতালটি উল্লিখিত অধ্যাদেশের ৮ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স প্রাপ্ত। এ অবস্থায় অধ্যাদেশের ১১ (২) (খ) ধারা মোতাবেক কেন আপনার, অত্র অধ্যাদেশের অধীনে প্রদত্ত লাইসেন্স বাতিল করা হবে না মর্মে পত্র জারির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে (৭ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে) কারণ দর্শাতে বলা হলো। আপনাকে কারণ দর্শানোর জবাব দেয়ার স্বার্থে তদন্ত প্রতিবেদনের কপি পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেয়া হলো। উল্লেখ্য, গত ২৭ মে সকালে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে ৩ সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ইতোমধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, বদ্ধ ছোট রুমে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকার ফলে ৬ শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতাল কতৃপক্ষের চরম অবহেলা এবং গাফিলতিকেই দায়ী করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
