

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে শেষ মুহূর্তেও প্রত্যাশিত ক্রেতা না আসায় গরুর বাজারে ধস নেমেছে। অতিরিক্ত সরবরাহের চাপের মুখে অনেক খামারি ও ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করছেন। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের, আর যেসব পশু বিক্রি হয়নি সেগুলো ট্রাকে করে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হাট ঘুরে দেখা যায়, একের পর এক ট্রাকে অবিক্রিত গরু তোলা হচ্ছে। অনেক বিক্রেতা আবার পরিবহনের অভাবে হাটজুড়ে ট্রাক খুঁজে বেড়াচ্ছেন, যেন অন্তত পশুগুলো নিয়ে বাড়ি ফেরা যায়।
মানিকগঞ্জ থেকে আসা এক ব্যবসায়ী বলেন, তিনি ৫০টি গরু এনেছিলেন, কিন্তু বিক্রি করতে পেরেছেন মাত্র ১৮টি। বাকিগুলো ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। এবার আমরা গরুর সঙ্গে নিজেরাও কুরবানি হয়ে গেছি।
আরেক ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার জানান, ৪০টি গরুর মধ্যে ২০টি বিক্রি হয়নি। ঈদের দুই দিন আগে যে গরুর দাম ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলা হয়েছিল, সেটি শেষ পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ঋণ করে গরু কিনেছি, টাকা পরিশোধ করতে হবে বলেই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।
খামারি ও ব্যাপারীদের অভিযোগ, কয়েকদিনের বৃষ্টি ও কাদার মধ্যে হাটে গরু রাখায় পশু অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তাই বড় লোকসান মেনেই অনেকে গরু বিক্রি করেছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, প্রতি গরুতে লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে দাম কমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। অনেকের মতে, ঈদের আগের দিনের তুলনায় গরুর দাম লাখে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে।
গরু কিনতে আসা আবু নাঈম জানান, যে গরুটির দাম আগে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল, সেটি তিনি শেষ পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় কিনতে সক্ষম হয়েছেন।
ব্যাপারীরা বলছেন, এবার কোরবানির পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও শেষ সময়ে আশানুরূপ ক্রেতা না থাকায় বাজারে দামের বড় ধরনের পতন ঘটেছে। তাদের দাবি, বুধবার ভোর থেকেই ধীরে ধীরে দাম কমতে শুরু করে, যা এখন আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ঈদুল আজহায় দেশে ৯১ লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়েছিল। আর চলতি বছর কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ। ফলে সরবরাহ বেশি থাকায় বাজারে এই মূল্যপতন তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
