

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


“তিন বছর আগে স্ত্রীকে হারিয়েছি। এখন আগুনে মেয়েকেও হারালাম… আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?”
কথাগুলো বলতে বলতে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন দেলোয়ার হোসেন। রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল-এর মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না—তার একমাত্র মেয়েও আর নেই।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কেরানীগঞ্জ-এর একটি গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় আগুন লাগে। ওই ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী মীম ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।
দেলোয়ার হোসেন পেশায় একজন নিরাপত্তাকর্মী। কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা এলাকায় ছোট্ট একটি বাসায় তার বসবাস। তিন বছর আগে অসুস্থ হয়ে স্ত্রীকে হারানোর পর মেয়ে মীমই ছিল তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
তিনি জানান, আগুন লাগার সময় তিনি মেয়েকে ফোন করেছিলেন। “দুপুর পৌনে ১টার দিকে ফোন দেই। ফোনে শুধু হট্টগোল আর চিৎকারের শব্দ শুনি। মেয়ের কোনো কথা শুনতে পাইনি। পরে আবার ফোন দিলে আর লাইনই পাইনি,” বলেন তিনি।
ঘটনার পরপরই তিনি কারখানায় ছুটে যান, এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করেন। “সন্ধ্যায় মর্গে গিয়ে দেখি আমার মেয়েটা পড়ে আছে… অনেক অনুরোধ করলাম, কিন্তু তখনও লাশ বুঝিয়ে দেয়নি,” বলেন তিনি।
প্রায় পাঁচ মাস আগে মীম ওই কারখানায় কাজ শুরু করে। পরিবারের আর্থিক কষ্ট কমাতেই তার এই সিদ্ধান্ত। দেলোয়ার বলেন, “আমি তাকে পড়াশোনা করাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে বলত—‘আমি কাজ করলে তোমার কষ্ট কমবে।’”
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, কারখানা থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মীমের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, দুপুর ১টা ১১ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, নিহতদের মধ্যে মীম ছাড়া অন্যদের মরদেহ পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
একটি পরিবারের শেষ সম্বল হারানোর এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—কারখানাটিতে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে কি এ প্রাণহানি এড়ানো যেত?
মন্তব্য করুন