

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। দুর্বল মার্কিন ডলার, মুদ্রাস্ফীতি কমার আশঙ্কা এবং তেলের দামের পতনের প্রভাবে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২৩১ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। আর যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য স্বর্ণের ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৪২ দশমিক ১০ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলার সূচক কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে উঠেছে। এতে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় বাজারে দামও বেড়েছে।
এদিন তেলের দামও হঠাৎ কমে যায়, যদিও এর আগে তা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করায় তেলের সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
টিডি সিকিউরিটিজের গ্লোবাল কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান বার্ট মেলেক বলেন, তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থেকে কিছুটা কমলেও তা এখনও মুদ্রাস্ফীতিতে প্রভাব রাখছে। তবে এটি এতটা বেশি নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সক্ষমতা সীমিত করবে। এতে বিনিয়োগকারীরা আবার মূল্যবান ধাতুর বাজারে ঝুঁকছেন।
সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়, কারণ এটি থেকে সরাসরি কোনও আয় পাওয়া যায় না।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) এবং পার্সোনাল কনজিউমশন এক্সপেনডিচারস (PCE) তথ্য প্রকাশের দিকে নজর রাখছেন। আগামী ১৭–১৮ মার্চের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে বাজারে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ফ্লাইট সীমাবদ্ধতা থাকায় দুবাইয়ে স্বর্ণ লন্ডনের তুলনায় ডিসকাউন্টে লেনদেন হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলেও চাহিদা তুলনামূলক কম রয়েছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৯ দশমিক ৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২২৯ দশমিক ১৫ ডলার। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৭৫ দশমিক ৫০ ডলারে নেমেছে।
বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
