

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রপ্তানি আয়ে ধীরগতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে নানা চাপের মধ্যেই দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বড় খবর দিচ্ছে প্রবাসী আয়। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৬ দিনেই দেশে ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আগস্টের প্রথম ১৬ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ হিসাবে, ১৩ থেকে ১৬ আগস্ট—মাত্র চার দিনেই দেশে এসেছে ২৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এই চার দিনে দৈনিক গড়ে প্রায় ৭ কোটি ২৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
আগস্টের প্রথম ১৬ দিনের এই প্রবাহের ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বমুখী ধারা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ১ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৪৬৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৩৭৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অর্থবছরের প্রথম ৪৭ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৯০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ২৪ দশমিক ২ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও রেমিট্যান্সে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, জুলাইয়ে দেশে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে এসেছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। ফলে জুলাইয়ে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের শুরুতেই প্রায় ২৮৬ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসায় আগস্টের প্রথমার্ধের প্রবাহ যোগ হয়ে দুই মাসের শুরুতেই প্রবাসী আয়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
জুলাইয়ের রেমিট্যান্স ছিল আগের কয়েক মাসের ধারাবাহিক শক্তিশালী প্রবাহেরও অংশ। এর আগে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের প্রথম ২২ দিনেই দেশে ২১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি ছিল।
অর্থবছরের ৪৭ দিনে ৪৬৫ কোটি ডলার
১ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ৪৬৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসার অর্থ হলো, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪৭ দিনে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার দেশে এসেছে।
অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে দৈনিক গড় প্রবাহ ছিল প্রায় ৭ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ শুধু মোট পরিমাণ নয়, দৈনিক গড় হিসাবেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ও ডলার সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেও দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে।
বিশেষ করে আমদানি ব্যয় মেটাতে ডলারের চাহিদা থাকলেও রেমিট্যান্স বাড়ায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ে। এতে আমদানি দায় পরিশোধ, বৈদেশিক লেনদেন এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।
আগের বছরগুলোতেও প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার ও আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ার সঙ্গে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সম্পর্ক দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে অনুকূল ও প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার এবং নীতিগত পদক্ষেপকে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুই উৎস রপ্তানি ও রেমিট্যান্স। এর মধ্যে রপ্তানি আয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্বলতা দেখা দেওয়ায় অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্সের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এই অবস্থায় অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। জুলাইয়ের ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের পর আগস্টের প্রথম ১৬ দিনেই আরও ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার আসায় চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী ধারা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলছে।
তবে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বৈধ বা আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোকে আরও সহজ করা, প্রবাসীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দ্রুত অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি অর্থবছরের মাত্র ৪৭ দিনেই ৪৬৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসায় এখন আগস্টের বাকি দিনগুলোতে প্রবাহ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে নতুন আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।


