

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে এবার একটি ব্যাংকের মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। এতদিন এ ক্ষেত্রে মোট ঋণের অন্তত ২ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষিতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা ছিল।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।
নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করবে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত অর্থবছরে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। ফলে এবার লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ৫৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই নতুন নীতিমালার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। কৃষি ঋণ কর্মসূচির তদারকি জোরদার করতে ‘ওয়েব বেসড এগ্রি-ক্রেডিট এমআইএস সফটওয়্যার’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নতুন নীতিমালায় কৃষি ঋণ বিতরণে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে প্রচলিত স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে ব্যক্তিগত, সামাজিক বা দলবদ্ধ জামানত ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ পাওয়া সহজ হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
শস্য, ফসল ও মৎস্য খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ অঞ্চলের বিভিন্ন আয়-উৎসারি কর্মকাণ্ডেও দলবদ্ধভাবে ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের সদস্যসংখ্যার সীমাও শিথিল করা হয়েছে।
নতুন ঋণযোগ্য খাত হিসেবে হ্যাচারিতে মাছ ও হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন এবং উট পালনের মতো কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্লুবেরি ফল, শিমুল মূল, অশ্বগন্ধা ও ডিমের খোসা দিয়ে জৈব সার উৎপাদনের মতো নতুন খাতও কৃষি ঋণের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রকৃত কৃষক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন অথবা সরকারি ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পাসবই থাকার বাধ্যবাধকতাও বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কৃষকদের বিমা সুবিধার আওতায় আনার নতুন নিয়ম যুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে কৃষি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে কৃষি ঋণ।


