সোমবার
০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মে মাসে এসেছে ৩৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন প্রবাসীরা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও রেমিট্যান্স পাঠানো অব্যাহত রেখেছেন। যার সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত মে মাসেও ৩৪২ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদকৃত এক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, মে মাসে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে। যা এককভাবে যে কোনো মে মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া দেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে মে মাসে। এরচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি বছরের মার্চ মাসে। সে মাসে দেশে ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ পালিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, গত মাসে মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এ উপলক্ষ্যে দেশে থাকা আত্মীয় স্বজনদের কাছে বেশি বেশি টাকা পাঠান প্রবাসীরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যদিও সাম্প্রতিক ইসরাইল ও আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হয়। তবুও সব শঙ্কাকে পেছনে ফেলে প্রবাসীরা এবারো রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মে মাসের শেষে ৭ দিনের ছুটিতে যায় পুরো দেশ। এরমধ্যেই ২৪ থেকে ৩১ মে এই ৮ দিনে ৪৪ কোটি ৮৯ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে বাংলাদেশে। পুরো মে মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। যা টাকার হিসেবে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এদিকে আগের বছরের একই মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ৩০০ কোটি বা ৩ বিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে চলতি বছরের মে মাসে আগের বছরের তুলনায় সাড়ে ৪২ কোটি ডলার বা ১৫ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে। এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে ৩২৭৫ কোটি বা ৩২ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ২৭৫০ কোটি বা ২৭ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ৫২৫ কোটি ডলার বেশি রেমিট্যান্স আহরণ করেছে দেশের ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, গেল মাসের রেমিট্যান্স আহরণে এগিয়ে আছে বরাবরের মত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এ ব্যাংকটি এককভাবে ৫৯ কোটি ২০ লাখ ডলার সমমূল্যের রেমিট্যান্স পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানেও ছিল বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। এ ব্যাংকটি ৪০ কোটি ৯৮ লাখ ডলার পেয়েছে রেমিট্যান্স। সবমিলিয়ে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর সর্বমোট আহরণকৃত রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলারেরও বেশি।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে অগ্রনী ব্যাংক। এ ব্যাংকটি মোট ২৪ কোটি ২৩ লাখ ডলার সমমূল্যের রেমিট্যান্স পেয়েছে। এছাড়া জনতা ব্যাংক ১৯ কোটি ৬৭ লাখ ও রূপালী ব্যাংক ৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। সরকারি ব্যাংকগুলো মোট ৫৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে।

এদিকে বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ৪৬ কোটি ৭১ লাখ ডলারেরও বেশি। এছাড়া দেশে থাকা বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪৬ লাখ ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ ডলার এককভাবে রেমিট্যান্স পেয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন