

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশে অর্থবছরের প্রচলিত কাঠামো বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত চলা অর্থবছর এখন এপ্রিল থেকে মার্চ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের যুক্তি, নতুন সময়সূচি চালু হলে বর্ষাকাল এড়িয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে।
পরিবর্তনের পথে প্রথম ধাপ হিসেবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে নয় মাসে সীমিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই অর্থবছর শুরু হবে ২০২৭ সালের জুলাইয়ে এবং শেষ হবে ২০২৮ সালের মার্চে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ সময়সূচি নিয়মিতভাবে কার্যকর হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমান কাঠামোতে অর্থবছর শুরু হয় জুলাইয়ে। ফলে বছরের শুরুতেই বর্ষাকাল চলে আসে। এ সময়ে ভারী বৃষ্টির কারণে সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়। কাজের সময় বাড়ার পাশাপাশি নির্মাণকাজের মান নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হয়। কোথাও কোথাও প্রকল্পের কাজ চলার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়ে।
সরকার মনে করছে, এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর হলে উন্নয়ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বর্ষা আসার আগেই শেষ করার সুযোগ থাকবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হতে পারে।
অর্থবছর পরিবর্তন শুধু বাজেটের সময়সূচি বদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এ জন্য সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সিস্টেমেও পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি আইনগত কাঠামোতেও প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।
পরিবর্তনের প্রস্তুতি ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ ও অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে একটি কমিটি কাজ করবে। সংবিধান এবং জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টিও এ প্রক্রিয়ার অংশ হবে।
সরকারের আরেকটি প্রত্যাশা হলো, অর্থবছরের শেষ দিকে উন্নয়ন বাজেট দ্রুত খরচ করার প্রবণতা কমানো। বছরের শেষ সময়ে বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের চাপ থাকলে অনেক প্রকল্পে তাড়াহুড়ো করে কাজ করার অভিযোগ ওঠে। নতুন সময়সূচি সেই চাপ কিছুটা কমাতে পারে বলে মনে করছে সরকার।
অর্থাৎ অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য শুধু হিসাবের সময়সীমা বদলানো নয়; বরং আবহাওয়ার সঙ্গে উন্নয়নকাজের সময়কে সামঞ্জস্য করা এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা।


