

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের চামড়া আহরণের সবচেয়ে বড় মৌসুম কোরবানির ঈদ। এই ঈদে বছরে আহরিত চামড়ার ৭০ শতাংশ আসে। কিন্তু বেশকিছু বছর ধরে চামড়াশিল্পের খারাপ অবস্থা চলছে। চামড়াশিল্পের উন্নয়নের জন্য একটি আলাদা বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে ঋণসুবিধা, রাসায়নিক দ্রব্য আমদানি সহজ করা ও সনদের প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব দাবি জানানো হয়। ‘অস্তিত্ব সংকটে চামড়াশিল্প উত্তরণের উপায় অনুসন্ধান’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে লেদার ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ। সভায় এ খাতের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির আহ্বায়ক সাদাত হোসেন।
মূল বক্তব্যে সাদাত হোসেন বলেন, চা–শিল্পের জন্য চা বোর্ড আছে। বস্ত্র মন্ত্রলাণয় আছে। কিন্তু চামড়া নিয়ে কোনো অভিভাবক সংস্থা নেই। তাই এ শিল্পের জন্য একটি জাতীয় চামড়া বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন। ৪০ শতাংশের বেশি মূল্য সংযোজন করা হলেও এ খাতের প্রতি কোনো গুরুত্ব নেই। কিন্তু ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন করে পোশাক খাত ৯৭ শতাংশ প্রণোদনা নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সনদের অসুবিধা দূর করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা নিয়ে ট্যানারিগুলোতে ছোট ছোট ইটিপি করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। ২০ বছরের মধ্যে এসব ঋণ পরিশোধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্কুলের বাচ্চাদের জন্য ব্যাগ ও চামড়ার জুতা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সভা থেকে আরও কয়েকটি চামড়াশিল্প গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। এই ঈদে চামড়া সংরক্ষণে যুক্ত ছোট ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়া এবং রাসায়নিক আমদানি সহজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে হিমাগার নির্মাণ ও কিছু ক্ষেত্রে চামড়া বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়। আন্তর্জাতিক সনদের বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আবদুল মুত্তালিব বলেন, ‘বিশ্বে ৫৬০ বিলিয়ন ডলারের চামড়ার বাজার রয়েছে। আমরা ১ শতাংশ অবদান রাখলেও এটা ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো পিছিয়ে থাকলেও এখাতে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।’
সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘সোনার খনির মতো চামড়া খাততে আমরা নষ্ট করছি। রাজনৈতিক কারণে এ খাতের সম্ভাবনা আটকে আছে। খুলনা-যশোর দিয়ে দেশের চামড়া পাচার হয়ে যাচ্ছে।’ এ খাতের সমস্যাগুলো সংসদসহ যথাযথ স্থানে উপস্থাপন করার আশ্বাস দেন জামায়াতের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন। এ ছাড়া কথা বলেন এনসিপি সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন।