শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামাকজাত দ্রব্যে অতিরিক্ত করারোপের কোনো বিকল্প নেই

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বাড়াতে আসন্ন অর্থবছরে তামাকজাত দ্রব্যে অ্যাড ভ্যালোরেম (মূল্য অনুসারে) সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত সুনির্দিষ্ট করারোপের কোনো বিকল্প নেই। যদিও বর্তমানে যে করহার রয়েছে সেটা যথেষ্ট এবং অত্যন্ত যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপ-উপাচার্য ড. সাইমা হক বিদিশা।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ ভবনের ডা. মিলন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‌‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর তামাক কর কাঠামো’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)।

ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সাইমা হক বিদিশা আরো বলেন, করহার না বাড়িয়ে শুধু দাম বাড়ালে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বাড়াতে অবদান রাখবে না। বরং কোম্পানির মুনাফা আরও বেড়ে যাবে। ফলে অ্যাড ভ্যালোরেমের পাশাপাশি যে হারেই হোক, সুনির্দিষ্ট করারোপ করা জরুরি বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ড. সাইমা হক বিদিশা।

অনুষ্ঠানে আসন্ন অর্থবছরের তামাক কর প্রস্তাব ও মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল্লাহ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রিমিয়াম স্তরে ২০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং মধ্যম ও নিম্ন স্তরকে একীভূত করে তাতে ১০০ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখা এবং প্রতি ১০ শলাকায় অতিরিক্ত ৪ টাকা ‘সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক’ আরোপ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রিমিয়াম স্তর ছাড়া অন্য স্তরসমূহের মূল্য থেকে ‘ও তদূর্ধ্ব’ শব্দদ্বয় বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিড়ির কর প্রস্তাবে ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিভাজন তুলে দিয়ে সুনির্দিষ্ট শুল্ক ব্যবস্থার প্রচলনসহ ২০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া জর্দা ও গুলের ওপর সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থার প্রচলনসহ প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬০ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে উভয় ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। উভয় পণ্যের ওপর আরোপিত সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ এনবিআরকে নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া সব তামাকজাত দ্রব্যের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তামাক পাতা রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক পুনর্বহালের প্রস্তাব করেছেন তারা। গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক, বিইআরের তামাক কর প্রকল্পের ফোকাল পারসন ও বিএনটিটিপির টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ড. রুমানা হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সিনিয়র সচিব ও ডিপিডিসির চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান খান। এছাড়া বিশেষজ্ঞ আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু খালিদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনটিটিপির প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, সঞ্চালনা করেন বিএনটিটিপির সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার ইব্রাহীম খলিল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. এনামুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও রাজস্ব বাড়াতে সরকারের দ্রুত একটি জাতীয় করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। তবে প্রস্তাবিত কর প্রস্তাবটি কার্যকর করা হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ত্যাগ করতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

হামিদুর রহমান খান বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো প্রাণঘাতী পণ্যের ব্যবসা করে বিপুল মুনাফা করে। তারা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে মিথ্যা তথ্য ছড়ায়। সরকারের উচিৎ একটি টেকসই তামাক কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি পূর্ণাঙ্গ তামাক কর নীতি প্রণয়ন করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন